একাত্তরের নৃশংসতা দেখল জয়পুরহাটবাসী

joypurhat-1-20211215161523.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘শালে মুক্তি হো, বোল পাকিস্তান জিন্দাবাদ, বোল, বোল….জয় বাংলা…. কেয়া বোলা কেয়া বোলা, বোল পাকিস্থান  জিন্দাবাদ, বোল শালে’ বলেই গুলি করে মুক্তিবাহীনির দুই সদস্যকে মেরে ফেলল পাক হানাদাররা। সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। বাতাসে ভেসে আসতে থাকে বন্দীদের আর্তচিৎকার আর কান্না। বেয়নেটের খোঁচা, ধারালো অস্ত্রের কোপ আর গুলি, অমানবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় সবাইকে। তৈরি করা হয় লাশের স্তূপ। তুলসীগঙ্গা নদী দিয়ে বয়ে যায় রক্ত।

টর্চার ক্যাম্পে নির্যাতন করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। নির্যাতনের আওয়াজ শুনে শহীদ আত্মারা জেগে ওঠে, বলতে থাকে তাদের পরিণতির কথা। যে কথাগুলো শুনতে পায় তাদের জীবিত আত্মীয়-স্বজনেরা। তারা সবাই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বজ্রের মতো কঠিন ও শক্তিশালী হয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধকে করেন বেগবান। অবশেষে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনেন বাংলার বীর সন্তানেরা।

আরও পড়ুন: ‘যতদিন তৃতীয় হাত থাকবে ততদিন এদেশে সুষ্ঠু ভোট হবে না’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালের সেই সব নৃশংসতার চিত্র ‘রক্তে বহে তুলসীগঙ্গা’ নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় দেশব্যাপী মঞ্চায়িত হচ্ছে ‘গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার’। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার জয়পুরহাটে ‘রক্তে বহে তুলসীগঙ্গা’ নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা করেছেন ড. মো. কামাল উদ্দীন।

একাত্তরে সারাদেশের মতো জয়পুরহাটেও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।  জয়পুরহাট সদরের কড়ই-কাদিপুর, সরকারি কলেজ, বুলুপাড়া, গাড়িয়াকান্ত, পাগলা দেওয়ান কুঠিবাড়ি ব্রিজ, চিনিকল, পাঁচবিবি, বীরনগর, কালিসাহা পুকুর, আক্কেলপুর, তিলকপুর, ক্ষেতলালসহ জেলার বিভিন্ন স্থান গণহত্যায় হয়েছিল রক্তস্নাত। রক্তে বহে তুলসীগঙ্গা নাটকের নাট্যকার, নির্দেশক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা একাত্তরে ঘটে যাওয়া জয়পুরহাটের সেই নৃশংসতা দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন।

নাটক শেষে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখানে জয়পুরহাটের সন্তানেরা যারা আছে তারা সবাই মুক্তযুদ্ধ দেখেননি। আমি নিজেই দেখিনি। এই মুক্তিযুদ্ধকে না দেখে তারা যে মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেছে এটাই আমাদের চাওয়া। কত রক্ত, কত ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ এসেছে। সবার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এসেছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় মঞ্চস্থ হওয়া ‘রক্তে বহে তুলসীগঙ্গা’ নাটকের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট। এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জয়পুরহাট জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার আমজাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইশরাত ফারজানা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শাম্মিম আজিজ সাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top