টেকনাফ থেকে দুই লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

141431yaba20161203103151.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : বিজিবি’র টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের দুই লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি’র টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপি গতকাল রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, অত্র বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-১৮ হতে আনুমানিক ১.৫ কিঃ মিঃ দক্ষিণ-পূর্ব কোণে এগারোকানী আলমগীরের প্রজেক্ট এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে পাচার হবে।

উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল দ্রুত বর্ণিত এলাকায় গমন করে। কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে এগারোকানী এলাকায় বেঁড়ীবাধের আঁড় নিয়ে গোপনে অবস্থান করে। আনুমানিক রাত ২টার দিকে উক্ত এলাকা দিয়ে ০৩ জন চোরাকারবারী ০২টি প্লাষ্টিকের বস্তা নিয়ে নাফ নদী পার হয়।

টহলদল উক্ত ব্যক্তিদেরকে দেখা মাত্রই তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে খুব দ্রুত তাদের দিকে অগ্রসর হয়। দুষ্কৃতিকারীগণ দূর হতে বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি অনুধাবন করা মাত্রই বহনকৃত বস্তা ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে রাতের অন্ধকারের সাঁতরিয়ে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন :মোটরসাইকেলে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে লাশ হলো স্কুলছাত্র

উল্লেখ্য, এলাকাটি বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের অতি নিকটবর্তী (দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার) হওয়ায় ইয়াবা পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে টহলদল বর্ণিত স্থানে পৌঁছে তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া ০২টি প্লাষ্টিকের বস্তা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত বস্তা থেকে ছয় কোটি টাকা মূল্যমানের দুই লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

ইয়াবা কারবারীদের আটক করতে ওই এলাকা ও নদীর তীরসহ পার্শ্ববর্তী স্থানে আজ শুক্রবার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হলেও কোন পাচারকারী কিংবা তাদের সহযোগীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উক্ত স্থানে অন্য কোন অসামরিক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি বিধায় ইয়াবা কারবারীদের সনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। তবে তাদেরকে সনাক্ত করার জন্য অত্র ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) টেকনাফ সীমান্তের দায়িত্বভার গ্রহণের পর হতে মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত, মানবপাচারসহ সীমান্তে সংঘটিত সকল প্রকার সীমান্ত অপরাধসমূহ প্রতিরোধকল্পে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে যাচ্ছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top