খুলনায় ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ তোশকের কারিগরদের

Lap-1.jpg

ফুলতলা প্রতিনিধি : শীত অনুভূত হচ্ছে। ঘুমোতে গেলে জড়াতে হচ্ছে কাঁথা, সাতসকালে ঘাসে শিশিরবিন্দু জানান দেয় শীত দ্বারপ্রাপ্রান্তে।

দিনে গরম, রাতে কুয়াশার শীতল হাওয়া আর ভোররাতে ঘন কুয়াশার হাতছানিই বলে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে ভোরের সকাল। ফলে লেপ-তোশক কারিগরদের ব্যস্ততা ও ভ্রাম্যামান লেপ-তোশক ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও বেড়েছে দক্ষিণের জনপদ খুলনার ফুলতলাতে। গ্রামের নারীরাও শীত নিবারনের জন্য কাঁথা সেলাই করে নিচ্ছেন।

বুধবার বাজারে বিভিন্ন বেডিং আর কটন শোপ দোকানেগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিলেছে কারিগরদের লেপ তৈরির কর্মব্যস্ততা। কারিগররা কেউ তুলো ধনছে, কেউবা ব্যস্ত লেপ-তোশক সেলাইয়ের কাজে, কেউবা লেপে হরেকরকম ডিজাইন ফুটিয়ে তুলছেন।

ফুলতলা বাজারে রাজমনি বেডিং হাউজের মালিক তালেব মোল্যা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার তুলার দাম বেড়ে গেছে, সেই সঙ্গে গজ প্রতি ৬-৭ টাকা কাপড়ের দাম বেড়েছে। ফলে লেপ-তোশক তৈরিতে দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ৮-১০টি লেপ তৈরির অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। তুলার মান ও পরিমানের উপর নির্ভর করছে লেপ তৈরি খরচ। একটি ডবল লেপ বানাতে চার থেকে পাঁচ কেজি তুলা লাগে এবং খরচ পড়ে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকার মতো। সিঙ্গেল লেপে খরচ পড়ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মতো। তবে লেপ বানাতে সাধারণত কার্পাস তুলা ব্যবহার করা হয়। শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ- তোশকের চাহিদা আরও বেড়ে যাবে।

মা মনি বেডিং বেডিং এর মালিক এম এ আকবার বলেন, আগের মতো তেমন একটা ব্যবসা নেই। করোনার কারণে দীর্ঘদিন দেশব্যাপী লকডাউন থাকায় গ্রামাঞ্চলের মানুষের মাঝে অভাব। তাঁদের হাতে টাকা পয়সা নেই। লেপ-তোশক তৈরিতে কারিগরের মজুরি সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গত বছরের তুলনায় এবার কার্পাস তুলা ১৮০ টাকা কেজি ও শিমুল তুলা প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। ফলে মাঝারি ও ছোট ধরনের লেপ তোশকের চাহিদা বেশি। আবার মিলের কটন দিয়ে লেপ তোশক তৈরি করতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। কারণ মিলের কটন দিয়ে লেপ তোশক তৈরিতে খরচ কম হওয়ায় ক্রেতারা গামেন্টেসের কটনের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। আবার চারদিকে আধুনিক প্রযুক্তির যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তৈরি অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে লেপ-তোশক বাজারে সরবরাহ হওয়ার কারণে হাতে তৈরির কদর অনেকটা কমে গেছে বলে লেপ তোশক ব্যবসায়ীদের দাবি। অপরদিকে লেপ তোশক ব্যবসায়ীরা তুলা এবং কাপড়ে ব্যবসা এমনকি শ্রমিকের মজুরিতেও ইচ্ছামত দাম নিচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ।

লেপ তৈরি করতে আসা আলকার সালমা খাতুন বলেন, কার্পাস তুলা দিয়ে একটি লেপের অর্ডার দিয়েছি। এছাড়া একটি পুরাতন লেপ মেরামতের জন্য এনেছি। কাপড়, তুলা, মজুরিসহ ১৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে লেপের মূল্য আগের চেয়ে বেশি বলে তিনি জানান।

লেপ-তোশক তৈরির কারিগর সাকিল আকুঞ্জী জানান, আমি ১৫ বছর ধরে লেপ-তোশকের কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছি। বাবার শেখানো এ পেশা ছেড়ে এখন অন্য পেশায় যেতে মন চায় না। তাই এ পেশায় আছি। শীতের মৌসুমে কাজের চাপ বেশি থাকলেও বছরের অন্য সময় অলস বসে থাকতে হয়। বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পন্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মহাজনরা তুলা কাপড় সুতা এমনকি মজুরির দাম বাড়তি নিচ্ছে কিন্তু আমাদের মজুরি না বাড়িয়ে গত ৩ বছর ধরে ২০০ টাকায় রেখেছে। যদি আমাদের মজুরির কথা বলে ক্রেতাদের নিকট থেকে বাড়তি রাখা হচ্ছে এমন দাবি মনির, রাব্বি, ইলিয়াস, মাহমুদসহ আরও অনেক কারিগরের।

এদিকে শহরের শীত কেন্দ্র করে ফুলতলা বাজারের সুঁতা সড়ক মার্কেটে উঠেছে নানা ধরনের কম্বল। আকার অনুযায়ী দাম থাকলেও এ ক্ষেত্রে বড় কম্বলের দাম আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ছোট কম্বল দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা।

এছাড়া শিশুদের জন্য কম্বলের দাম এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। তাছাড়া অল্প দামের কম্বলও রয়েছে মার্কেটগুলাতে, যা তিনশ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় পাচ্ছেন ক্রেতারা।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top