ওয়াজ শুনে কান্না করা দোষের নয়

2331593_kalerkantho-2021-25-pic-1.jpg

 ডেস্ক রিপোর্ট : আবু নাজিহ ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.)  বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক মর্মস্পর্শী নসিহত করলেন, যাতে অন্তরগুলো বিগলিত হলো ও চক্ষুগুলো অশ্রুসিক্ত হলো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, মনে হয় এটি বিদায়ী নসিহত; আমাদের আরো অসিয়ত করেন। তিনি বললেন, ‘আমি তোমাদের তাকওয়া তথা মহান আল্লাহ তাআলার ভয় করতে উপদেশ দিচ্ছি, আমিরের কথা শুনতে ও আনুগত্য করতে বলছি, যদিও তোমাদের আমির গোলাম হয়। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা শিগগিরই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ ও আমার পর হিদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদিনের সঠিকপথ মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরার মতো আঁকড়ে ধরবে। আর সাবধান! তোমরা দ্বিনের ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহর বাইরে নতুন আবিষ্কৃত কথা ও মতবাদ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা নিশ্চয়ই সব বিদআতই হচ্ছে গোমরাহি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৬৭৬)

উল্লিখিত হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে ওয়াজ-নসিহত শুনে কান্না করা দোষের নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপদেশ শুনে সাহাবিরা কান্না করতেন। নবীজি (সা.)-এর উপদেশ শুনে কান্না করার একাধিক ঘটনা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে শর্ত হলো কান্না মহান আল্লাহর ভয়ে হতে হবে। লোক দেখানোর জন্য নয়। কোনো ব্যক্তি যদি ওয়াজ শুনে আল্লাহর ভয়ে কান্না করে তবে তা মর্যাদার বিষয়। নিম্নে আল্লাহর ভয়ে কান্না করার মর্যাদার কিছু দিক তুলে ধরা হলো।

১. জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার উপায় : যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। যেমন নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদে সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না যেমন দোহনকৃত দুধ আবার গাভীর উলানে ফেরানো যায় না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৬৮৩)

আরও পড়ুন : মদিনা সনদে সম্প্রীতি ও সংহতির অঙ্গীকার

২. আরশের ছায়া প্রাপ্তির মাধ্যম : যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার স্মরণে কাঁদবে সে আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহ তাআলার (আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় পাবে, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না।…যে ব্যক্তি একাকী আল্লাহর স্মরণ করে এবং তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২৩)

৩. কান্নাকাটি সাহাবাদের বৈশিষ্ট্য : আল্লাহর ভয়ে সাহাবারা সর্বদা কান্নাকাটি করতেন। যেরূপ এ হাদিসের বর্ণনায় তার প্রমাণ মেলে। এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে কম হাসতে ও বেশি কাঁদতে। তিনি বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা তাদের মুখ ঢেকে গুন গুন শব্দে কাঁদতে শুরু করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৬২১)

সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর কান্নার নমুনা : আল্লাহর ভয়ে কান্না করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। যেমন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জীবনীতে আছে বেশি বেশি কান্না করার কারণে তাঁর চেহারায় দুটি কালো দাগ পড়েছিল। (আত-তাবসিরাহ : ১/৩৭৯)

উসমান (রা.) যখন কবরের কাছে দাঁড়াতেন তখন এত অধিক কাঁদতেন যে তার দাড়ি মোবারক ভিজে যেত। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব : ৪/১৯২)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সম্পর্কে প্রমাণিত যে তিনি যখন আল্লাহর বাণী ‘মুমিনদের জন্য এখনো কি সে সময় আসেনি যে আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তি-বিগলিত হবে?’ #তিলাওয়াত করতেন তখন এত বেশি পরিমাণে কাঁদতেন যে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়তেন।’ (তাসহিলুল উসুল : ১/৫)

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top