২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস শিক্ষা কার্যক্রমের ৩১ বছর পূর্তি

Khulna-University-Main-Gate-photo-1.jpg

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক / ছবি: প্রবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমের একত্রিশ বছর পূর্তি হচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আপামর মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা ও ত্যাগ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়।

১৯৯০ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাস হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশ হয় ওই বছর ৩১ জুলাই। এর পর ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ৪টি ডিসিপ্লি¬নে ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাস শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর শিক্ষাকার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২০০২ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে প্রতিবছর এ দিনটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়ে আসছে। দেশে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন : খুলনায় ভবনের অভাবে শতাধিক শিশুর শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত

প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নবম। মহানগরী খুলনা থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন ময়ূর নদীর তীরে এক মনোরম পরিবেশে গল্লামারীতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকাটি ছিলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এক বধ্যভূমি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা, চারুকলাসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি স্কুল (অনুষদ) রয়েছে। এখানে মোট ২৯টি ডিসিপ্লিনে (বিভাগ) শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ব্যাচেলর ডিগ্রি, ব্যাচেলর অব অনার্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি, এম ফিল এবং পিএইচডি প্রদান করা হয়।

স্কুলগুলোর মধ্যে কলা ও মানবিক স্কুলের আওতায় রয়েছে ইংরেজি, বাংলা এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিন। আইন স্কুলের আওতায় রয়েছে আইন ডিসিপ্লিন। জীববিজ্ঞান স্কুলের আওতায় রয়েছে এগ্রোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি, ফরেস্ট্র্রি এন্ড উড টেকনোলজি, ফার্মেসি ও সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিন। ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের আওতায় রয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিন। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের আওতায় রয়েছে আর্কিটেকচার, আরবান এন্ড রুরাল প্লানিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিন। সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের আওতায় আছে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লি¬ন।
চারুকলা স্কুলের আওতায় তিনটি ডিসিপ্লিন চালু রয়েছে, এগুলো হলো ড্রইং এন্ড পেইন্টিং, প্রিন্টমেকিং ও ভাস্কর্য ডিসিপ্লিন। শিক্ষা স্কুলের অধীন রয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটের পরই ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ক্রেডিট পদ্ধতি চালু হয়। দেশের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাত্মক পর্যায়ে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন এবং ঢাকার বাইরে স্থাপত্য ডিসিপ্লিন ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রথম এবং দেশের মধ্যে ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় হিসেবে চালু হয়। সুন্দরবন ও উপকূল নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের মধ্যে প্রথম স্থাপিত হয়েছে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস এন্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই)। দেশের মধ্যে প্রথম সয়েল আর্কাইভ স্থাপিত হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া রিসার্চ সেলে স্থাপিত হয়েছে আরটি-পিসিআর মেশিন। যা দ্বারা সাম্প্রতিক সময়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। মডার্ণ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণার মান বিশ্বমান অর্জনে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং এন্ড লার্নিং (সিইটিএল) এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ শিক্ষা-গবেষণা জোরদারে দ্য অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা ৫ শতাধিক। ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এর মধ্যে বিদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে ১৯ জন। এছাড়া কর্মকর্তা রয়েছেন ৩ শতাধিক এবং কর্মচারি রয়েছে ৪ শতাধিক। শিক্ষাকার্যক্রমের গত ৩১ বছরে ২৭টি ব্যাচে থেকে উত্তীর্ণ গ্রাজুয়েট সংখ্যা ১৩ সহস্রাধিক। যারা দেশে-বিদেশে দক্ষতা, সুনাম ও সাফল্যের সাথে নানা পেশায় কাজ করছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশই পিএইচডি ডিগ্রিধারী। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অনুপাত ১:১১। যা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক এবং দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বিশেষ করে নবীন শিক্ষকবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে উল্লে¬খযোগ্য সংখ্যায় স্কলারশিপ পাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি সংস্থার গবেষণা সহায়তাও বাড়ছে। শিক্ষা ও গবেষণা কর্মকা-ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও উন্নত বিশ্বের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়, নেপালের কেআইএএস বিশ্ববিদ্যালয়, সারওয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের মেকানিকাল বিভাগ মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (এলআইপিআই) এর বায়োমেটিরিয়ালস সেন্টার এবং জার্মানির স্টুটগার্টস ইউনিভার্সিটির সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটি ও লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির সাথে যৌথ গবেষণা প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বনামধন্য দু’টি বেসরকারি হাসপাতাালের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আন্তঃমহাদেশীয় একটি গবেষণা প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশে নেতৃত্ব দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীত জ্ঞান যাতে বাস্তবে কাজে লাগানো যায় এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে কলামে প্রশিক্ষণ হয় সে জন্য বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের রাইঙ্গামারি গ্রামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি ভিলেজ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে একাধিক সমঝোতা স্মারক। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে পরপর দু’বার স্কোপাস পরিচালিত জরিপে দেশের মধ্যে উদ্ভাবনীতে প্রথম ও গবেষণায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে। ২০২১ সালে বিশ্ব বিজ্ঞানীদের র‌্যাংকিংয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষক-গবেষক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করেছেন। এবছর জাতিসংঘের এসডিজি অর্জনে সহায়তায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ ফাইজা বিথার। এছাড়া আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ফার্মিনেফ দল। সম্প্রতি স্টুডেন্ট প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় ১২টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপটিমিস্ট দলের উদ্ভাবনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রয়েছে ৩টি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলরের বাসভবন, পাঁচটি আবাসিক হল, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৫টি বাসভবন, অগ্রণী ব্যাংক, ডাকঘর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির। ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের জ্ঞান সহায়তায় রয়েছে সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বহুতল বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। এই গবেষণাগার আরটি-পিসিআর মেশিনসহ উন্নতমানের গবেষণা যন্ত্রপাতির সংস্থান করা হয়েছে। এই গবেষণাগারের মাধ্যমে ৬২টি গবেষণা প্রকল্পে ইতোমধ্যে ২ কোটি টাকারও বেশি অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৩ শতাধিক গবেষণা নিবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে জীববিজ্ঞান স্কুলের ১৩৬টি, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ৯৮টি, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ৪০টি, কলা ও মানবিক স্কুলে ২০টি, চারুকলা স্কুলে ১৬টি এবং ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলে ৩টি গবেষণা নিবন্ধ রয়েছে। এবছর ৫ জনকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন স্কুলের অধীন ৩৬ জন পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষণারত রয়েছেন।

এছাড়া করোনা মহামারিতে সৃষ্ট স্থবিরতা কাটিয়ে চলতি সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো দশতলা জয়বাংলা একাডেমিক ভবন, ৫ তলা আইইআর ভবন, চারতলা মেডিকেল সেন্টার, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার নির্মাণ, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের পার্শ্ব ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ১১ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ। প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত টিএসসি ভবনের নির্মাণকাজের চুক্তি শেষে সম্প্রতি শুরু হয়েছে। ২৪ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ জিমনেশিয়ামের চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। ফলে ৩৩৫ কোটি টাকার সংশোধিত প্রকল্পের অবশিষ্ট প্রায় ২২৩ কোটি টাকার সব কম্পোনেন্টের কাজ চালু হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণাধীন এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুবিধা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

দেশের তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার বিকাশে, গবেষণা জোরদারের মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদ আহরণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন জনসম্পদ সৃষ্টি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির সোপানে এগিয়ে নেয়া এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার কাজ এগিয়ে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা সাফ্যল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে অগ্রসর হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top