পিবিআই’র প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট কিশোর

131848cop_kalerkantho_pic.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : আটকে পর নির্যাতন করা হয়েছে এ অভিযোগে করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত বাদীর আবেদন গ্রহণ করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি এ প্রতিবেদনের ওপর নারাজির শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) তাপস কুমার পাল বিষয়টি জানিয়েছেন।

এদিন এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে বাদী এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির জন্য সময়ের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নারাজি শুনানির জন্য আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এর আগে ছয় মাস তদন্ত শেষে গত ১৭ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, কিশোরের সাদা পোশাকে অজ্ঞাতনামা ১৬-১৭ জনের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। এর আগে গত ২০ মার্চ ঢামেকের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমী, অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন খান ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. হাফিজ সর্দারের মেডিক্যাল বোর্ড ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে কিশোরের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনেও তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পায়নি এ ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন : পুলিশের প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে সিটি ব্যাংকের ৫০ লাখ টাকা অনুদান

এদিকে, গত ১০ মার্চ কিশোর আদালতে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলার আবেদন করেন। এরপর আদালত কিশোরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তারপর আদালত গত ১৪ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত মামলার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে কিশোরকে নির্যাতন করা হয়েছে কি না এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার আবেদনে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়।

মামলায় এজাহারে বলা হয়, গত বছর ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু এর আগে গত ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ১৬-১৭ জন সাদা পোশাকধারী লোক তার কাকরাইলের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু তারা কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখাতে পারেনি। তারা বাসা থেকে মোবাইল, সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়। পরে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তাকে। সেখানে ২ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। তাদের আলাপ আলোচনায় একজনকে জসিম বলে ডাকতে শুনেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, কিশোরকে একটি পুরোনো ও স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড জোরে তার কানে থাপ্পড় মারলে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেন, তার কান দিয়ে রক্ত গড়গড়িয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকে। যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন কিশোর।

গত বছরের ৫ মে র‌্যাব-৩ সিপিসি-১ এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে কিশোরসহ ১১ জনের নামে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।এ মামলার তদন্ত শেষে গত ১৩ জুন মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) উপপরিদর্শক আফছার আহমেদ আদালতে সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এছাড়া এ মামলা থেকে কারাগারে আটক অবস্থায় মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদসহ চারজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আগামী ১ ডিসেম্বর এ মামলার পলাতক আসামি সামিউল ওরফে জুলকার নাইন সায়ের খান ও নেত্র নিউজের এডিটর ইন চিফ তাসনিম খলিল, আশিক ইমরান ও স্বপন ওয়াহিদের সম্পতি ক্রোকের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

এর আগে রমনা থানার মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর দশ মাসের বেশি সময় কারাগারে আটক থাকার পর গত ৩ মার্চ শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। বর্তমান কিশোর এ মামলায় জামিন রয়েছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top