রয়্যাল রিসোর্টেও ধর্ষণ করেন মামুনুল : আদালতে ঝর্ণা

175313kalerkantho_jpg-1.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট: চাঞ্চল্যকর সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে মুখোমুখি হয়েছেন মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা।

আজ বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. শাহীন উদ্দিনের আদালতে তারা মুখোমুখি হন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হাসান শ্যামলের আদালতে আসামি মামুনুল হকের উপস্থিতিতে তিনি জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বিয়ের আশ্বাসে কখন কোথায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে এর বর্ণনা দেন।

আরও পড়ুন : হাফ ভাড়া দিতে গিয়ে হেনস্তার শিকার জাবি ছাত্রী, বাস আটক

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি রাকিবুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে জন্নাত আরা ঝর্ণা মামুনুল হক কখন কোথায় নিয়ে ধর্ষণ করেছেন এর বর্ণনা তুলে ধরেন। একইভাবে গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টেও নিয়ে তাকে (ঝর্ণা) নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন হোটেল কক্ষে তাদের দুজনকে আটক করে।

ঝর্ণার জবানবন্দি শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেছেন। মামুনুল হকের আইনজীবীদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবার দেন জান্নাত আরা ঝর্ণা।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয় মামুনুল হককে। এর কিছুক্ষণ পরই জান্নাত আরা ঝর্ণা আদালতে আসেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে মামুনুল হককে।

আরও পড়ুন : হাফ ভাড়া দিতে গিয়ে হেনস্তার শিকার জাবি ছাত্রী, বাস আটক

মামুনুল হক গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে ওই রিসোর্টে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

এই ঘটনায় গাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ, আওয়ামী লীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে দু’টি ও সাংবাদিক একটি মামলা দায়ের করেন। তার কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরো তিনটি মামলা দায়ের করেন। ৬টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক।

পরে ৩০ এপ্রিল সকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারী জান্নাত আরা ঝর্ণা। যাকে মামুনুল হক তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছিলেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top