প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গায়েবি ‘কবর’ নিয়ে তোলপাড়

Screenshot_2020-11-21-প্রাণিসম্পদ-কর্মকর্তার-কার্যালয়ে-গায়েবি-‘কবর’-নিয়ে-তোলপাড়.png

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাল্পনিক মাজার স্থাপন নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ‘কবর’ রয়েছে দাবি করে মাজারটি স্থাপন করেন রেনু মিয়া নামে এক তরুণ। তিনি উপজেলার পূর্ব বামৈ গ্রামের মারাজ উল্ল্যাহর ছেলে।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের কিছু জায়গাজুড়ে কয়েকটি নিশানা টাঙিয়ে নিয়মিত মোমবাতি জ্বালিয়ে সেখানেই থাকছেন রেনু মিয়া।

লাখাই উপজেলা পরিষদের ভেতরেই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে কিছু জায়গাজুড়ে একটি ‘কবর’ আকৃতি তৈরি করেন রেনু মিয়া। কবরটির চারপাশে বিভিন্ন রঙের নিশানা টাঙিয়ে রাখেন তিনি। সেখানে নিয়মিত মোমবাতি জ্বালিয়ে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা করেন। দফতরের কর্মকর্তারা নিষেধ করার পরও এ কাজ করছেন ওই তরুণ। রেনু মিয়ার এমন কর্মকাণ্ডে দাফতরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রাণিম্পদ কার্যালয়ে কর্মরতরা জানান, মাজার বানানো ওই তরুণ মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি মিথ্যা দাবি নিয়ে মাজার স্থাপন করে রেখেছেন। কার্যালয়ের গেট বন্ধ করে রাখলেও দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু হানিফ বলেন, আমি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। এখানে কারো কবর নেই বলে তারা জানিয়েছেন। অথচ সরকারি দফতরের ভেতর ওই তরুণ জোর করে মাজার দিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করেছেন। প্রবেশপথ বন্ধ রাখলেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গেটে আঘাত করতে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। আমরা তাকে পুলিশে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে লাখাইয়ের ইউএনও লুসিকান্ত হাজং বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। পরিদর্শন শেষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লাখাই থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!