হাজার কোটি টাকার মালিক গোল্ডেন মনির!

131107golden_monir_kk.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট :  ১৯৯০ এর দশকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করতেন মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির। এরপর শুরু করেন ক্রোকারিজের ব্যবসা। তারপর লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে মালামাল আনতেন। একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন স্বর্ণ চোরাকারবারে। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি দখল করে এখন তিনি দুই শতাধিক প্লট ও হাজার কোটি টাকার মালিক।

শুক্রবার শেষ রাত থেকে শনিবার (২১ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত মনিরকে তার মেরুল বাড্ডার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, ৬০০ ভরি স্বর্ণ (আট কেজি), ১০টি দেশের মুদ্রা ও এক কোটি নয় লাখ টাকাসহ আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

অভিযান শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) শেষ রাত থেকে মেরুল বাড্ডায় গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিদেশি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, তার বাসা থেকে ৬০০ ভরি (আট কেজি) সোনার গহনা, ১০টি দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় নয় লাখ টাকা। এছাড়া নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।

গোল্ডেন মনির একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরা চালানকারী ও জমির দালাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বাড়ি থেকে অনুমোদনহীন দুটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এছাড়া, তার গাড়ির শোরুম অটো কার সিলেকশন থেকে আরো তিনটি অনুমোদনহীন বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। ‘ভূমিদস্যু’ গোল্ডেন মনির রাজউকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল সংখ্যক বাড়ি ও প্লট হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট, নিকুঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক প্লট ও বাড়ি রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে মনির ৩০টি স্থানে প্লট ও বাড়ির কথা স্বীকার করেছেন।

আশিক বিল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মনির ১৯৯০ এর দশকে রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। সেটা ছেড়ে দিয়ে তিনি ক্রোকারিজের ব্যবসা শুরু করেন। এরপর লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন মালামাল দেশে আনতেন। একপর্যায়ে তিনি স্বর্ণ চোরাকারবারিতে নিজেকে জড়িয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধপথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আনেন। সেখান থেকে তার নাম হয়ে যায় ‘গোল্ডেন মনির’।

গোল্ডেন মনিরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ এক হাজার ৫০ কোটি টাকারও বেশি। তার বিরুদ্ধে আরো বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডি, অনুমোদনহীন গাড়ির জন্য বিআরটিএ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করবে র‌্যাব, জানান তিনি।

এদিকে, বাসা থেকে অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় র‌্যাব পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে নিজ বাসা থেকে গোল্ডেন মনিরকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ফৌজদারি অপরাধের জন্য র‌্যাব গোল্ডেন মনিরকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে অন্যান্য বিষয়ে তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে র‌্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!