খুলনার ভৈরব পাড়ে বিশাল জনসমাগম : উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

20201120174730_IMG_5826.JPG.jpg

খুলনা ভৈরব নদের ৭ নং ঘাট এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম। ছবি: প্রবর্তন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন শীতে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে জনসমাগম এড়াতে বন্ধ রয়েছে খুলনার সকল চিত্ত বিনোদন কেন্দ্র। তবে অতি উৎসাহী বিনোদন প্রেমীরা থেমে নেই। খুলনা মহানগরীর ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় নিয়মিত ভিড় জমাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিনিয়ত সেখানে হাজার হাজার লোকের আনাগোনা হচ্ছে। কেউ আসছেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে, কেউ আসছেন পরিবার-স্বজন নিয়ে। তাদের কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউবা মগ্ন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে, আবার কেউ কেউ ভৈরবের বুকে বেড়ানোর জন্য নৌকায় উঠে পড়েছেন। পাড়ে বসে প্রেমে মগ্ন হচ্ছেন তরুণ কপোত-কপোতির দল। মানুষের আনাগোনা বাড়ায় স্থায়ী ও অস্থায়ী খাবারের দোকানও গড়ে উঠেছে বেশ। তবে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কেউ সতর্ক থাকছেন না। এমনকি মাস্ক ছাড়াও সেখানের অধিকাংশ নারী-পরুষ ঘোরাফেরা করছেন।

শনিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতন। সন্ধ্যা গড়াতেই সেখানে কানায় কানায় ভীড় জমে উঠেছিল।

এই এলাকাটি একসময় ছিল ভয় ও আতঙ্কে ভরা। কুখ্যাত খুনি এরশাদ শিকদারের অপকর্মের রাজত্ব চলত দিন রাত জুড়ে। তার মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে এলাকাটি মানুষের নিকট বাণিজ্য ও বিনোদনের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

খুলনা ভৈরব নদের ৭ নং ঘাট এলাকায় ব্যপক জনসমাগম। ছবি: প্রবর্তন।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা যায়, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভৈরবের তীরঘেঁষে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। ২০১৬ সালের ৬ জুন সড়কটি উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকা নতুন করে সাজায় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। ভৈরবের পাড়ে তীরে প্রতিরক্ষা ব্লক বসানো, ফুটপাতে টাইলস বসানো, দর্শনার্থীদের বসার জন্য ছাতা, নদীর তীরে তিনটি গ্যালারি, লাইটিং ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এর পর থেকে স্থানটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এখানে সপরিবারে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন এক বেসরকারি চাকরিজীবী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ছেলে মেয়েরা ঘরে আবদ্ধ ছিল। করোনার কারণে এমনিতে তাদের স্কুল কলেজ বন্ধ। তাদের আবদার মিটাতে সপরিবারে এখানে চলে এসেছি। সন্ধ্যা হতেই আবার বাসায় ফিরব। তবে এসে এত জনসমাগম দেখে ভয় হচ্ছে। এখানে কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাচ্ছেন না।’

খুলনা ভৈরব নদের ৭ নং ঘাট এলাকায় ব্যপক জনসমাগম। ছবি: প্রবর্তন।

এ বিষয়ে কেসিসির ২১ ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, ‘খুলনার বিনোদন কেন্দ্রসমূহ বন্ধ থাকার কারনে ঘাট এলাকায় বেশি লোকের আনাগোনা হচ্ছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং করছেন। তবে সাধারণ মানুষ সেটা বুঝতে চায় না। শারীররিক দূরত্ব ও মানতে চাচ্ছে না। তবে আমাদের তরফ থেকে সচেতনতামূলক প্রচার অব্যহত আছে।’

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, ‘ প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে আমরা শীঘ্রই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।’

খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বাসক বলেন, ‘ ওই এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে আগেও ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান চালানো হয়েছে। আবারও সেখানে অভিযান চালানো হবে।’

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!