পিকে হালদারকে গ্রেফতারে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে: হাইকোর্ট

image-366224-1605780140.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট :  আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) বিপুল অর্থের সুবিধাভোগী প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারকে গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, দুদক চেয়ারম্যান ও ঢাকার জেলা প্রশাসককে ১০ দিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।এ ছাড়া এ বিষয়ে পদক্ষেপ লিখিতভাবে হলফনামা আকারে দুদক চেয়ারম্যানকে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।আদেশের সময় আদালতে ছিলেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিকঅর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত পিকে হালদারের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে খুরশীদ আলম খান আদালতে বলেন, বর্তমানে তিনি পলাতক। আসার কথা বলেও তিনি দেশে আসেন নেই। সর্বশেষ অবস্থা হলো  ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ধরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।এ সময় আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, আত্মসাৎ করা টাকা দেশের বাইরে পাঠিয়েছে কি?

জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, সেটিই তদন্ত চলছে। এখানে মানিলন্ডারিং হয়েছে। অনেক টাকাই বিদেশে পাঠিয়েছে। সেটির তদন্ত চলছে।পরে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, কেউ দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করবে, আর সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে– মগের মল্লুক নাকি! কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাকে অবশ্যই দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে, আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। এত টাকা সে কিভাবে আয় করেছে, কিভাবে সে বিদেশে পাচার করেছে!‘আমরা মনে করি তাকে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা সেটা আমাদের জানা দরকার।”

বিচারক বলেন, একজন মানুষ হাজার হাজার কোটি নিয়ে যাচ্ছে, সে আইনের আওতার বাইরে থাকবে, আদালতের আওতার বাইরে থাকবে, সব জাতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাবে এটা হতে পারে না।‘তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে কীভাবে এত টাকা বিদেশে নিয়ে গেল। এ বিষয়ে অবশ্যই যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। এটি অবশ্যই কোর্টের নজরে আনতে হবে। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।’এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতে পিকে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ৩০০ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে।বিদেশে থাকা পিকে হালদার গত ২৮ জুন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি আবেদন করেন।সেখানে বলা হয়, আইএলএফএসএল তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মালিকানার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। তার অনুপস্থিতি ও দেশের মধ্যে সৃষ্ট ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ওই সব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ‘জটিল আকার’ ধারণ করেছে।তিনি দেশে ফিরতে পারলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ‘সংকট কেটে যাবে’ এবং মহামারীর সময়ে দেশের অর্থনীতিতে ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখতে পারবে বলে সেখানে দাবি করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, সে জন্য তিনি ‘ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে’ দেশে ফিরতে চান এবং তার সব প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আইএলএফএসএলসহ অন্যান্য সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দায়দেনা মিটিয়ে ফেলতে চান।পি কে হালদারের ওই আবেদন পাওয়ার পর তার জীবনের নিরাপত্তায় আদালতের হেফাজত চেয়ে আবেদন করে আইএলএফএসএল।এ আবেদনে শুনানির পর পিকে হালদার কখন কবে কোন ফ্লাইটে দেশে ফিরতে চান তা আইএল এফএসএলকে জানাতে বলেন আদালত।

একপর্যায়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর আইএলএফএসএল আদালতকে জানায়, ‘আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দিতে’ জীবনের নিরাপত্তার জন্য আদালতের আশ্রয়ে দেশে ফিরতে চাইছেন পিকে হালদার।এর পর আইএলএফএসএলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে আবেদন করে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসার জন্য তিনি টিকিট কেটেছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ওই ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন।

পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট আদেশ দেন। সে আদেশে আদালত বলেন, পিকে হালদার বিমান থেকে দেশের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত আদালতে সোপর্দ করতে হবে।পিকে হালদার ‘নিরাপদে’ দেশে ফিরে যাতে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, সে জন্য পুলিশপ্রধান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

কিন্তু ২৪ অক্টোবর আইএলএফএসএলের আইনজীবী ইমেইল করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানায়, পিকে হালদার আপাতত দেশে ফিরছেন না।শারীরিক অসুস্থতা এবং কোভিড ১৯-এর কারণে তিনি আসছেন না। কখন আসবেন পরে জানাবেন।পিকে হালদার বিদেশ পালানোর পর আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের পাশাপাশি তার সম্পত্তি জব্দ করা হয়।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top