আজ কি জামিন পাবেন শাহরুখপুত্র?

image-235749.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : মাদক মামলায় ২৪ দিন ধরে কারাবন্দি শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান। এ পর্যন্ত তিন দফায় নিম্ন আদালতে আবেদন করেও তিনি জামিন পাননি। শেষমেশ মুম্বাই হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন ছেলে আরিয়ানের জন্য নিযুক্ত শাহরুখ খানের আইনজীবী সতীশ মানসীণ্ডে। সেইেআবেদনের শুনানি আজ মঙ্গলবার।

আজও আরিয়ানের জামিন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, তার বিরুদ্ধে পোক্ত প্রমাণ দাঁড় করাতে মরিয়া মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এনসিবি)। এমনকি, বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে আরিয়ানের বিরুদ্ধে সাক্ষী দাঁড় করাতে তারা নাকি প্রস্তাবও দিয়েছেন। এমনই তথ্য প্রকাশ করেছেন আরিয়ানের মামলার এক প্রত্যক্ষদর্শী।

তবে ছেলের জামিনের ব্যাপারে আশাবাদী আরিয়ানের তারকা বাবা শাহরুখ খান এবং মা গৌরী খান। ইতোমধ্যে দুজন আইনজীবী নিয়োগ করেছেন তারা। দুজনই মুম্বাইয়ের সেরা উকিল। তারা আরিয়ানের জামিন চেয়ে হাইকোর্টে ১০টি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। সেগুলো হলো-

১. আমির ফার্নিচারওয়ালা থেকে শুরু করে মুম্বাই থেকে গোয়াগামী সেই প্রমোদতরীর কোনো আয়োজকের সঙ্গে রেভ পার্টি বা পার্টিতে মাদক সেবন নিয়ে আরিয়ানের কোনো কথা হয়নি।

২. অ্যারেস্ট মেমোয় কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের উল্লেখ নেই। বরং ৮(সি), ২০(বি), ২৭ লঙ্ঘন করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার ওপর। পরবর্তীতে রিমান্ডের সময় সেকশন ২৯ যোগ করা হয়।

৩. আরিয়ানের কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।

৪. ওই মামলায় ধৃত আরবাজ মার্চেন্ট ও অচিত কুমার ছাড়া কারও সঙ্গে কোনো পরিচয় নেই আরিয়ানের। তাই তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া কোনো মাদকের জন্য আরিয়ানকে দোষী করা যায় না।

৫. আরবাজের সঙ্গেও পার্টিতে যাওয়ার আগে মাদক নিয়ে কথা হয়েছে আরিয়ানের- এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণও এনসিবির কাছে নেই।

৬. এনসিবি আরিয়ানের মামলায় বারবার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কথা উল্লেখ করেছে। আরিয়ানের দাবি, যে সমস্ত চ্যাটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা এই ঘটনার অনেক আগের। পাশাপাশি এনসিবি তার চ্যাটের ভুল অর্থ বের করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

৭. আরিয়ানের কেস সেকশন ৩৭-এর আওতায় পড়ে না। যে আইনে প্রচুর পরিমাণে ড্রাগস পাওয়া গেলে বিপক্ষের আইনজীবী বেলের বিরোধিতা করতে পারেন।

৮. আরিয়ানের মামলায় এনসিবির তরফ থেকে বারবার বলা হয়েছে, ছাড়া পেলে আরিয়ান প্রমাণ নষ্ট করে দিতে পারেন। এরও বিরোধিতা করেন শাহরুখপুত্র।

৯. আরিয়ানের তরফ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার কাছ থেকে কোনো মাদক মেলেনি। তাই এখানেই সব থেমে যাওয়া উচিত। কিন্ত তা না করে, আরবাজের কাছ থেকে পাওয়া মাদক আরিয়ানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

১০. ২০০১ সালে এনডিপিএস অ্যাক্ট-এ বেশ কিছু সংশোধন আনা হয়েছে যাতে তা সমাজ সংস্কারমূলক কাজে ব্যবহার করা যায়, নাকি প্রতিশোধ নেওয়ার কাজে। তাই আরিয়ানকে জামিন না দেওয়ার অর্থ আইন সংশোধনের উদ্দেশ্যকে অন্ধকারে রাখা।

এখন দেখার বিষয়, এই ১০ যুক্তি পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার আরিয়ানের জামিনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত দেন মুম্বাই হাইকোর্ট।

গত ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে গোয়াগামী এক প্রমোদতরী থেকে মাদক উদ্ধার করে মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এনসিবি)। সেখানে আরিয়ানও ছিলেন। ওই দিন তাকে আটকের পর পরদিন গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এনসিবি দাবি করে, আরিয়ানের কাছ থেকেও মাদক পাওয়া গেছে। সেই থেকে কারাবন্দি শাহরুখপুত্র।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top