পাইকগাছায় বেড়েছে চুরি-ছিনতাই

index.jpg

এন ইসলাম সাগর: খুলনার পাইকগাছায় সম্প্রতি চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরণের সামাজিক অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে কয়েকটি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

সোমবার ভোর রাতে রাড়ুলী গ্রামের জনৈক ব্যক্তি ইঞ্জিন ভ্যান নিয়ে ঢাকা থেকে আসা স্ত্রীকে নিতে বোয়ালিয়া মোড়ে আসছিল। পথিমধ্যে ঘোষপাড়া নামক স্থানে পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা সড়কে সুপারি গাছ ফেলে গতিরোধ করে তার ইঞ্জিন ভ্যান, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এর আগে পৌর সদর থেকে একাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। তার আগে কাঁটাখালী-শিববাটী সড়কের মধ্যবর্তি স্থানে বান্দিকাটী গ্রামের জনৈক ব্যক্তির ইঞ্জিন ভ্যান ছিনতাই হয়।

পৌর বাজারে একাধিক গৃহবধুর ব্যাগ কেটে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এভাবেই প্রতিনিয়ত এলাকায় চুরি ও ছিনতাইসহ নানা ধরণের অপরাধ ঘটছে। ধারাবাহিক এ ঘটনার ফলে স্বস্তিতে নেই এলাকার মানুষ। সবার মধ্যে এক ধরণের চুরি ও ছিনতাইয়ের আতঙ্ক কাজ করছে।

গৃহবধু ফরিদা পারভীন বলেন,’ প্রয়োজনীয় কাজে বাজারে গেলে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। এই বুঝি আমার ব্যাগটি কেটে টাকাগুলো নিয়ে গেল।’

বান্দিকাটী গ্রামের আকরাম গাজী বলেন, ‘ব্যবসায়িক কাজে সার্বক্ষনিক পৌর সদরে অবস্থান করতে হয়। মটর সাইকেল রেখে কোন কাজ স্বস্তিতে করতে পারি না। সব সময় নিজের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে।’

ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘পৌর বাজারে কয়েকটি চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী, ক্রেতা সাধারণ সকলের মধ্যে এক ধরণের উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা কাজ করছে। এ ধরণের অপরাধের প্রবণতা রোধ করতে হলে পুলিশ প্রশাসনকে পৌর সদর ও বাজারের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে পৌরসভা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। অনেক সময় অপরাধ কর্মকান্ড সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এ ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যেতে পারে।’

পৌর সদরের ন্যায় উপজেলার সবখানেই বিশেষ করে কাঁটাখালী সড়ক, বোয়ালিয়া সড়ক, কার্তিকের মোড় সহ বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে থানার ওসি এজাজ শফী বলেন, ‘যে কোন ধরণের অপরাধ রোধসহ আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশ সব সময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। এর মধ্যেও কতিপয় দুর্বৃত্তরা মাঝে মধ্যে এলাকায় কিছু অপরাধ ঘটাচ্ছে। এদের আমরা ধরার চেষ্টা করছি। আশা করছি অচিরেই এরা ধরা পড়বে এবং আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।’

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!