ইউপি নির্বাচনে ডুমুরিয়ায় সর্বত্র আচরণবিধি লঙ্ঘন !

7c345f7b573d72dacaa2a320c77f1834-614741f32445c-1.jpg

শেখ সাদী , ডুমুরিয়া থেকে ফিরে : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় বলা আছে প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে পোস্টার প্যানা, ফেস্টুন লাগানো যাবে না। করা যাবে না শোভাযাত্রা ও মিছিল। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দের আগেই খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থীই প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এর প্রচার অনেকটাই বেশি। তবে উপজেলা নির্বাজচন অফিসার জানিয়েছেন অভিযোগ পেলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দ্বিতীয় দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ি ‘আগামী ২৭ অক্টোবর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর আগে গণসংযোগ, নির্বাচনী সভা ও প্রচার-প্রচারণা চালানো নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। একটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য করতে আচরণবিধির সুষ্ঠু প্রতিপালন একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। কোনো নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, তার জন্য প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। বিধিনিষেধও থাকে তাঁদের কার্যক্রমে। সীমারেখা টেনে দেওয়া হয় প্রচার প্রচারণাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে। এগুলো যথাযথভাবে অনুশীলন করা না হলে নির্বাচনের ফলাফলে অনভিপ্রেত প্রভাব পড়ে অভিমত নির্বাচন বিশেজ্ঞদের।

ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের ১৪ জনসহ মোট ৭৩ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করতে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৫৪৫, জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৬১জন মনোনয়ন পত্র জমা দেন। আগামী ২৬ অক্টোবর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওইদিন জানা যাবে কতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন। পরদিন ২৭ অক্টোবর চুড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে রির্টানিং অফিসারগণ প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। দলীয় প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ দলের প্রতীক নিশ্চিত হয়েছেন। তাই তারা আগেভাগেই নির্বাচনী প্রতীক দিয়ে ব্যানার প্যানা লাগিয়েছেন। আবার কেউ কেউ দলীয় প্রতীকের পক্ষে পথসভা, ঘরোয়া সভা ও শোভাযাত্রা সহকারে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় এসব প্রার্থীদের পক্ষে ঘরোয়া সভায় বিপক্ষের প্রার্থীদের মাঠে না নামতে হুমকিও দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া ঘরোয়া সভা, পথসভা করতে নির্ধারিত সমযের কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা পূর্বে সভার স্থান ও সময় পুলিশকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু সেটাও করা হচ্ছে না। সভার স্থান ও অতিথিদের নাম এমন কি প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ মাইকে প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে। সবচেয়ে আচরনবিধি লঙ্ঘন ও হুমকি ধমকি দেয়ার ঘটনা ঘটছে, ডুমুরিয়া, গুটুদিয়া, শোভনা, আটলিয়া, খর্নিয়া, রুদাঘরা, শরাফপুর, মাগুরখালি ও সাহস ইউনিয়নে। এছাড়া ভান্ডারপাড়া, রঘুনাথপুর, রংপুর এবং ধামালিয়া ইউনিয়নেও আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্ধি অভিযোগ করে বলেন, , সরকার দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীক যেহেতু নিশ্চিত তাই তারা প্রচার প্রচারনা শুরু করেছেন। কিন্তু আমাদের প্রতীক তো এখনও চুড়ান্ত নয়। এজন্য প্রচার প্রচারণা করতে প্রতীকের কথা উল্লেখ করতে পারছি না। অথচ দলীয় প্রতীক দিয়ে ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থীও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। নির্বাচন অফিসের এ ব্যাপারে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার কল্লোল বিশ্বাস জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘিত না হয় সে ব্যাপারে নির্বাচন অফিস যথেষ্ঠ তৎপর। প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে প্রতীক দিযে বা প্রতীকের সর্মথনে কোন সভা, সমাবেশ করা যাবে না। তাছাড়া ঘরোয়া সভা করতে হলেও নির্ধারিত সমযের ২৪ ঘন্টা পূর্বে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।

ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান বলেন, নির্বাচনী তফশিল ঘোষনার পর দলীয় বা প্রার্থীর সমর্থনে কোন সভা, পথসভা করতে হলে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে অবহিত করা হচ্ছে না।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top