দ্বিতীয় স্বামীকে মামলায় ফাঁসিয়ে গোপনে তৃতীয় বিয়ে করলেন স্ত্রী

ace9c85c-03.barguna.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : বরগুনার তালতলীতে দ্বিতীয় স্বামীকে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়ে গোপনে তৃতীয় বিয়ে করেন স্ত্রী মাসুরা। বিষয়টি জানাজানি হলে দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দিয়ে আবার তৃতীয় স্বামীর সঙ্গে বিয়ের কাবিন করেন মাসুরা- এমন অভিযোগ দ্বিতীয় স্বামী জসিমের।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া গ্রামের বাবুলের পুত্র জসিমের সঙ্গে প্রতিবেশী মালেকের কন্যা মাসুরা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের ১২ দিনের মাথায় স্বামী জসিম তার প্রথম স্ত্রীর কাছে চলে যান। এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী মাসুরার সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়।

এরপর গত বছরের ১ জানুয়ারি স্বামী জসিম জানতে পারেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী মাসুরা তাকে তালাক না দিয়ে পার্শ্ববর্তী কালাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের ইমান আলীর পুত্র দুলালের সঙ্গে স্ত্রী পরিচয়ে সংসার করছেন এবং ওই ঠিকানায় স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নিয়ে গেলে তারা তাদের বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরদিন ২ জানুয়ারি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখানোর কথা বলে ওই দিন রাতেই তারা ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যান।

এরপর বরগুনা কোর্টে গিয়ে মাসুরা বেগম বাদী হয়ে স্বামী জসিমের বিরুদ্ধে খোরপোশ বাবদ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় স্বামী জসিম তিন মাস হাজতবাস করেন।

সম্প্রতি হাজতবাস থেকে মুক্তি পাওয়া জসিমের ভাষ্য, মাসুরাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তিনি বুঝতে পারেন যে তার স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রয়েছে। পরকীয়ায় আসক্তি আছে তার। এটা দেখে মন ভেঙে যায় তার। তাই তিনি প্রথম স্ত্রীর কাছে চলে গিয়েছিলেন। একে কেন্দ্র করে মাসুরা তার সঙ্গে বিবাদ সৃষ্টি করেন এবং একে অজুহাত বানিয়ে দুলালের সঙ্গে পালিয়ে যান। উল্টো মামলা করে জসিমকে জেলেও পাঠিয়েছেন। ‘এখন আমার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী যে অন্যায় করেছেন, তার বিচার চাই আমি’, বলেন জসিম।

গত বছরের ১৫ মে ঢাকার ইব্রাহিমপুর কাজী অফিসে গিয়ে দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক না দিয়ে মাসুরা বেগম কুমারী পরিচয় দিয়ে দুলালকে বিয়ে করেন, এটা তার তৃতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় স্বামী জসিম ওই কাবিননামা সংগ্রহ করে তা কোর্টে দাখিল করেন। এরপর চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর বরগুনা সদরের চরকলোনির কাজী সাঈদুর রহমানের অফিসে গিয়ে স্বামী জসিমকে তালাক দিয়ে ওই দিনই দুলালের সঙ্গে আবার তৃতীয় বিয়ের কাবিন করেন।

মাসুরা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে তৃতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি স্বীকার করে বলেন, জসিমকে সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখে তালাক দিয়েছি। আর চলতি মাসের ৮ তারিখে চরকলোনি কাজী অফিসে দুলালকে বিয়ে করেছি, এটা আমার তৃতীয় বিয়ে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলম ফকির বলেন, ইমান আলীর পুত্র দুলাল এখানে একটি মেয়েকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন। পরে ওই মেয়ের শাশুড়ি লোকজনসহ দুলালের বাড়িতে গেলে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেন এবং কৌশলে রাতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top