১২০০ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা বন্ধ, জোড়াতালি দিয়ে হলেও চালুর নির্দেশ

080826Untitled-1.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : জনবলের অভাবে যেসব মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেগুলো চালু করার নির্দেশ দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

কেন্দ্রগুলো চালু করতে প্রয়োজনীয় কর্মীদের স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় পালাক্রমে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এই নির্দেশ ইতিবাচক হিসেবে নেওয়া হলেও অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কেউ কেউ এই প্রক্রিয়াকে জোড়াতালি বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এভাবে চালাতে গেলে বিশৃঙ্খলা হবে।

গত ৯ অক্টোবর ‘১২০০ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবার দরজা বন্ধ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. হেমায়েত হুসেন অধিদপ্তরের অধীন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেখানে জনবলসংকট রয়েছে সেখানে সেবা কার্যক্রম চালুর জন্য স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় পালা করে কর্মীদের দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নবনির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে (হস্তান্তরিত) পূর্ণ জনবল পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সেবা কার্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা নিয়ে দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন অধিদপ্তরের পরিচালক।

‘পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরাধীন সেবাকেন্দ্রে সেবা কার্যক্রম চালু রাখা’ শীর্ষক ওই নির্দেশনায় আরো চারটি কাজ করতে বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে প্রতিটি কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অনুমোদিত সাইনবোর্ড প্রদর্শন; দায়িত্বপ্রাপ্ত

কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, পদবি ও মোবাইল ফোন নম্বর ভবনের বাইরে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন; অনুমোদিত সিটিজেন চার্টার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং সেবাগ্রহীতার বসার ব্যবস্থা করা ও কেন্দ্রের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

একই দিন প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম উল্লেখসহ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসনের) পক্ষ থেকে অনলাইনে সারা দেশে একটি জরুরি ছক পাঠানো হয়। কোন এলাকায় কতটি নবনির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং কতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে, কতটি সচল, কতটি অচল এবং কী কারণে সেবা কার্যক্রম বন্ধ তা নির্ধারিত ছকে উল্লেখ করে পাঠাতে বলা হয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।

অধিদপ্তরের কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, জনবলের অভাবে যেখানে সচল কেন্দ্রগুলো চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে কর্মীদের টানাটানি করে অচল কেন্দ্রগুলো চালু করা আরো কঠিন। এতে তেমন কোনো সুফল আসবে না। বরং চালু কেন্দ্রগুলোতেও রোগীদের ভোগান্তি বেড়ে যেতে পারে।

একটি জেলার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, কেন্দ্রগুলো দ্রুতই সচল হবে, মানুষ সেবা পাবে—এটা আশার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যাও আছে। কোনো কোনো উপজেলায় এক থেকে দুজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা (এফডাব্লিউভি) আছেন। সেখানে এই জনবলকে কিভাবে পালা করে পাঁচ-ছয়টি কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব, সেটা বুঝে আসছে না।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় একজন কর্মকর্তা জানান, এখন এফডাব্লিউভিদের ১৮ মাসের যে প্রশিক্ষণ চলছে, তার মাত্র আট মাস গেছে। তাঁদের পেতে হলে আরো ১০ মাস অপেক্ষা করতে হবে। তা-ও আবার সংখ্যায় অল্প। এর মধ্যে প্রতি মাসে কোথাও না কোথাও অবসরে যাচ্ছেন এফডাব্লিউভিরা। তাই টানাটানি চলবেই; যদি না কেন্দ্রগুলোর জন্য পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ ও পদায়ন না হয়। যদিও আগামী ২২ অক্টোবর কিছু জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক একজন কর্মকর্তা পরামর্শ দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ করা খুবই জরুরি। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফদেরও খণ্ডকালীন বা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজে লাগানো যায়।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top