সেতুর নির্মাণ কাজের ধীরগতিতে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

image-234043.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : এক বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়-বনগজ এলাকায় সাড়ে চার বছর ধরে একটি সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজারো মানুষ। সেতু না থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে। যেখানে সেতুটি নির্মাণ হলে স্বল্প সময়ে এবং কম খরচে উপজেলা সদরসহ জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারতো মানুষ।

তবে ঠিকাদার বলছেন, সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন এবং বর্ষার কারণে নির্মাণ কাজ দেরি হয়ে গেছে।

আখাউড়া বড় বাজার থেকে ধরখার পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার একটি সড়ক রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে উপজেলার পশ্চিপাঞ্চল ধরখার ইউনিয়নের ১৫-১৬টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রেলওয়ে স্টেশন, স্কুল-কলেজে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ এ সড়কটি ব্যবহার করে। এতে সময় এবং খরচ কম লাগে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বনগজ এলাকায় একটি খালে কুড়ের (বড় গভীর গর্ত) কারণে যানবাহন চলাচল করতে সমস্যা হয়। বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে খাল পারাপার করতে হয়। সন্ধ্যার পর বিপাকে পড়ে মানুষ। এলাকাবাসীর এ দুর্ভোগ লাঘবের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কুড়ের উপর একটি সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। যার দৈর্ঘ ৯৬ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ ও প্রস্থ সাড়ে ৫ মিটার। সেতুর দরপত্র মূল্য পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ৪১ হাজার ৯২৭ টাকা। সময় ধরা হয় এক বছর। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে উইং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর মাঝখানে ছয়টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর পূর্ব দিকের অংশে তিনটি গাডার ডালাই করা হয়েছে। চারজন শ্রমিক সেতুতে কাজ করছে। মানুষ নৌকায় চড়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।

সেতুর কাজে নিয়োজিত নির্মাণ শ্রমিক সোহেল রানা বলেন, সেতুর মূল কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন গাডার ঢালাই এবং ছাদ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তিনটি গাডার ঢালাই হয়ে গেছে। নয়টি গাডারের উপর তিনটি ছাদ দেওয়া হবে। তাহলেই সেতুর কাজ শেষ হবে।

ইয়াসিন নামে এক যুবক অভিযোগ করেন, ঠিকাদার অল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কারণে এতো দেরি হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি নামে নারী বলেন, এ সেতুটি নির্মাণ হলে আমরা স্বল্প সময়ে উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারব। এখন অনেক ঘুরে চলাচল করতে হয়। রাতের বেলা প্রয়োজনে যাতায়াত করা যায় না।

হেবজু মিয়া নামে এক প্রবীণ বলেন, এর চেয়ে বড় বড় সেতু তৈরি করতেছে সরকার। আর এ সেতুটি বছরের পর বছর ধরে শেষ হয় না। ঠিকাদারের গাফিলতি আছে বলে তিনি জানা।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক কামরুজ্জামান বলেন, সড়কটি নির্মাণ হলে আখাউড়া থেকে ধরখার পর্যন্ত সরাসরি যাত্রী নিয়ে যেতে পারতাম। এতে আমাদেরও আয় রোজগার বেশি হতো, যাত্রীদেরও অনেক সুবিধা হতো।

এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন বনগজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর। তিনি বলেন, এ সেতুটি বনগজ এলাকার দু:খ। এ এলাকায় তিনটি সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে শিক্ষকরা এখানে আসতে চায় না। ছাত্রছাত্রীরাও কষ্ট করে যাতায়াত করে।

এ বিষয়ে সেতুর ঠিকাদার খাইরুল হাসান ও আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, সেতুর ডিজাইনে ত্রুটির কারণে কাজ শুরু করতে অসুবিধা হয়। তবে এখন কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। আশা করি, ৫/৬ মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top