জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় সরকারের ব্যর্থতা: মির্জা ফখরুল

1664973400.Fukrul-BG1.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের ঘটনা বিদ্যুৎখাতে ‘সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্বিক ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে দুপুর থেকে ছয় ঘণ্টা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ অধিকাংশ জেলায় বিদ্যুৎহীন অবস্থার বিষয়ে বুধবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা মনে করি যে, এটা (জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়) সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা। যে কথাটা আমাদের টুকু (সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু) বললেন যে, এখানে যে পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এবং যে কাঠামোগত ব্যাপারটা থাকে অর্থাৎ টেকনিক্যাল সাইড যেটা থাকে সেখানে টোটালি চুরি হয়েছে বলেই আজকে এ বিপর্যয় ঘটেছে। এটা একটা ঘটনা নয়। এটা শুধু বিদ্যুতে নয়। সর্বক্ষেত্রে ঘটনাগুলো ঘটছে। এর ফলে আজকে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, এজন্য মূলত দায়ী সরকারের অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজেক্ট গ্রহণ করা, বিভিন্ন উন্নয়নের প্রকল্প করা যার লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতি করা।

তিনি বলেন, সরকার যে এতো চিৎকার-চেচামেজি করছে সবসময় যে, আমরা বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছি, অতিরিক্ত উৎপাদনও হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায়। সেগুলো নিয়ে আমরা সেমিনারে বলেছি, কোথায় সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু গতকালের ব্যাপারটা ছিল অস্বাভাবিক ব্যাপার। সারাদেশে প্রায় আট ঘণ্টা বেশির ভাগ জায়গাতে বিদ্যুৎ ছিল না-ইট ইজ এ টোটাল ‘ব্লাক আউটে’র মতো হয়ে গেছে।

এর থেকে যেটা বুঝা যায়, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নাম করে বহু প্রজেক্ট করেছে, টাকা পয়সাও বহু বানিয়েছে। বানিয়ে শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে, এ ধরনের একটা বড় বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এর ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক-ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে, সব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে.. জাতিকে এক অসহনীয় অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দিলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ সারাদেশের অর্ধেক অঞ্চলের বিদ্যুৎ চলে যায়। সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টার পর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ ফেরানো কাজ শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা।

এদিকে সরকার এ বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর নির্বাহী পরিচালনক ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুপুরে আসাদ গেইটে দলের স্থায়ী কমিটির অসুস্থ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে যান বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

পরে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘সারাদেশে যে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো দিয়েছে সেগুলো ইউনিভাইড স্পেসিফিকেশনে দেয়নি। এর ফলে কোনো পাওয়ার স্টেশন খুব নিউ জেনারেশনের আবার কোনোটা পুরনো। এদের মধ্যে সিনকোনাইজড করা সম্ভব না। এই সরকার বিদ্যুৎ সেক্টারটাকে ‘খিদা আছে খাও, যত খাইতে পারিস খাও, তারপরে বিদ্যুৎ দিচ্ছে’। বিদ্যুৎ যে শুধু জেনারেশনে বিদ্যুৎ চলে না, ট্রান্সমিশনে লাগবে, ডিসট্রিবিউশনে লাগে-এগুলোর কিন্তু খুব একটা উন্নতি হয়নি। খালি বিদ্যুৎ প্রকল্প বানিয়েই গেছে। বানিয়ে যাওয়ার ফলে আজকে যেটা হয়েছে। এটা আরও হবে ভবিষ্যতে। কারণ সিনট্রোনাইজ করেনি। ’

তিনি বলেন, ‘রেন্টাল পাওয়ার যেগুলো আছে এগুলো পুরনো মেশিন। পুরোনা মেশিন আর নতুন যেগুলো আছে- সেগুলো এক না। কোনো না কোনো সময় দেখা যাবে একটা ক্লিক করলে সবগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। সিনট্রোনাইজড করতে পারবে না। কারণ নতুনটার সঙ্গে পুরনোটার সিনট্রোনাইজড করা যায় না। এই যে লুটপাট করার জন্য যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে পাওয়ার স্টেশন দিয়েছে, সেই পাওয়ার স্টেশনের স্পেসিফিকেশনগুলো কি, প্রসিডিউরগুলো কি, এটা একটার সঙ্গে আরেকটা ম্যাচ করবে কিনা এসব বিবেচনা করেনি। না করার ফলে আমরা দেখলাম যে, আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। একটা দেশে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে কত ওয়ার্ক আউট নষ্ট হয়, কত প্রডাকশন নষ্ট হয় এটা আপনারা সাংবাদিকরা বুঝতে পারছেন। ’

মির্জা ফখরুল বলেন, এটা ভয়াবহ ব্যাপার। এখানে আমরা যেটা বলছি যে, কর্তৃত্ববাদী এই সরকার, তার যে বর্হিপ্রকাশ, তারা যে আরও নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে, দেশের মানুষকে বঞ্চিত করবে এসব তথ্য তারই বর্হিপ্রকাশ। এখন আর কোনো ফাঁক ফোকর রইল না…।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top