বাগেরহাটের মনোরঞ্জন ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েই হলেন ইউপি চেয়ারম্যান

1632748934_01-Daily-Inqilab.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিক মনোরঞ্জন পাল। আওয়ামীলীগের মনোনয়নে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তিনি নন, তার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্নেহলতা পালসহ পরিবারের তিন সদস্যই ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েছেন সুশান্ত বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ করে সুশান্ত পাশের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অপরদিকে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ খতিয়ে দেখছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মনোরঞ্জন পাল মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের ডাবরা গ্রামের অমৃত লালের ছেলে। তিনি একই সাথে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নাগরিক। উত্তর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগা মহাকুমার বাগদা থানার কনিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। তার স্ত্রী ৮২ নং দক্ষিন চুনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্নেহলতা পাল এর নাম রয়েছে কনিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকায়। মনোরঞ্জন পালের ছেলে সৌমিত্র পালও ভারতীয় নাগরিক। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার (http://ceowestbengal.nic.in) এর ওয়েবসাইটে তাদের নাম ও ঠিকানা রয়েছে।

এ বিষয়ে মনোরঞ্জন পাল বলেন, আমি এবং আমার পরিবারের সকল সদস্য শুধুমাত্র বাংলাদেশী নাগরিক। ভারতে আমার কোন নাগরিকত্ব নেই। কোন ব্যবসা বাণিজ্যও নেই। কোন একটি কুচক্রী মহল এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার (http://ceowestbengal.nic.in) এর ওয়েবসাইটে আপনার এবং আপনার পরিবারের সকলের নাম রয়েছে কেন এমন প্রশ্নে মনোরঞ্জন পাল বলেন, ওয়েবসাইটের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। ওয়েবসাইট বুঝি না।

মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রবীর কুমার মল্লিক বলেন, নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী কোন ব্যক্তির নাম বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার তালিকায় থাকলেই সে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে কোন আদালত অথবা সরকারের সাংবিধানিক কোন প্রতিষ্ঠান যে নির্দেশনা দিবে নির্বাচন কমিশন সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।

বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. শাহ আলম বলেন, শিক্ষক স্নেহলতা পাল একজন সরকারি কর্মচারী। যদি দুই দেশের নাগরিকত্ব থেকে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top