ভাঙাচোরা সড়কে গাড়ী চালানো শিখতে খুলনায় আসছেন এক হাজার বিদেশি কর্মকর্তা!

DSC_7523.jpg

নগরীর গোয়ালখালি পার্কের সামনে সড়কের বেহাল দশা। ছবি: আব্দুর রাজ্জাক।

রম্য প্রতিবেদক: সম্প্রতি সময়ে খুলনার একাধিক সড়কের বেহাল দশা। তবে সেসব সড়ক দিয়ে স্বচ্ছন্দে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকরা। যদিও ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে গাড়ী চলাচলের সময় যাত্রীরা থাকেন নরক যন্ত্রনায়। এমন বেহাল সড়কে কিভাবে গাড়ি চালানো হয় তা শিখতে খুলনায় আসছেন বিভিন্ন দেশের এক হাজার কর্মকর্তা।

আগামী অক্টোবরের শুরুতে কোন তারিখে রাত পোহানোর আগে ঢাকার শাহজালালে অবতরণের কথা রয়েছে ওই কর্মকর্তাদের। তবে বাংলাদেশের সড়কের ধুলাবালি সইতে পারার উপযোগী মাস্ক ও চশমা তৈরিতে বিলম্প হওয়ায় সফর পিছিয়ে যেতে পারে। এছাড়া তাদের আসার পূর্বে যদি সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু যায়, তাহলে খুলনায় আসবেন কি-না তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ রয়েছেন বলে প্রবর্তনের রম্য প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উগান্ডার এক মুখপাত্র রম্য প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, বাংলাদেশের খুলনার মহানগর ও জেলার বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা। তবে সেখানের চালকরা স্বচ্ছন্দে ভাঙা সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। ভাঙা সড়কে যাত্রীরা নরক যন্ত্রনায় থাকলেও কোন প্রতিবাদ করেন না। সেখানের চালকরা কিভাবে ভাঙা সড়ক দিয়ে গাড়ি চালান? আমরা মূলত সেই অভিনব পন্থা শিখতে আসবো।’

আবার আফ্রিকার দেশ ঘানার মূখপাত্র বলেন, ‘বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেখেছি খুলনার সড়কের ভঙ্গুর দশা। বর্ষাকালে সেখানে কোন কোন সড়ক যেন ছোট ডোবায় পরিনত হয়। সেসব সড়ক দিয়ে আবার দৈনিক শত শত যাত্রীবাহি ও পণ্য যান চলাচল করে। আমরা ভাঙা সড়ক দিয়ে গাড়ী চলাচলের ধারণা নিতে আসছি। তবে ভাঙা সড়কের ধুলাবালি সইতে পারবো কি-না তা নিয়ে শঙ্কিত আমরা। এজন্য বিশেষ ধরণের চশমা ও মাস্ক তৈরি করা হচ্ছে। তাই সফরে বিলম্বও হতে পারে।’

সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এম এ বারী লিংক রোডটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ছবি: আব্দুর রাজ্জাক।

আফ্রিকার আরেকটি দেশ নাইজেরিয়ার মূখপাত্র বলেন, আমরা ভাঙা সড়কে গাড়ি চালান শিখার জন্য খুলনায় আসব। শুনেছি প্রতিনিয়ত সেখানে সড়ক খোঁড়াখুড়ি করা হয়। কোথাও কোথাও বড় গর্তও সৃষ্টি হয়। সেসব সড়কে আমরা নিজেরাই গাড়ী চালাবো। তবে একটি হেলিকপ্টারও নিয়ে আসবো। যদি গাড়ি চালানো কিছুক্ষণ পরে ধুলাবালিতে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, তাহলে আকাশ পথে সড়ক পরিদর্শন করবো। সাথে একটি নৌকাও নিয়ে আসবো। যদি সড়কের ছোট ডোবায় ঠাঁই না পায় তবে নৌকায় পাড়ি জমাবো।’

এদিকে তাদেরকে স্বাগত জানাতে শাহজালাল বিমানবন্দরের সড়কে ভাঙা ইটের কোয়া দিয়ে সাজানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন চালক সমিতির কোন একজন। বিমানবন্দর থেকে খুলনা পর্যন্ত তাদের বিশেষ নিরাপত্তায় আনা হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে চালক সমিতির কোন একজন জানান, বিমানবন্দর ও আশপাশ এলাকা ইটের কোয়া দিয়ে দিয়ে সাজানো হবে। অতিথিদের যে গাড়িতে বহন করা হবে তার চাকাও তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ধরনের ইট, বালু ও পিচ দিয়ে।

এছাড়া সবচেয়ে বেশি ভাঙা সড়ক হিসেবে খুলনার নাম গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তালিকাভুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে আবেদন জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদি গিনেজ ওয়ার্ল্ডে নাম ওঠে সঙ্গে সঙ্গেই প্রবর্তনের রম্য বিভাগকে সবার আগে জানাবেন তিনি। খবর পাওয়া মাত্রই পাঠকের উদ্দেশে সংবাদটি প্রকাশ করবে প্রবর্তন।

ঘোষণা: প্রবর্তনে প্রকাশিত কোনো রম্য লেখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী বা এলাকাকে উদ্দেশ্য করে বা হেয় করার জন্য নয়। সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক লেখায় অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে তা সংশোধনযোগ্য।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!