পুতিনের হুমকির পর সংলাপের আহ্বান চীনের

putin-62-20220921132902-1.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : পশ্চিমা বিশ্ব যদি ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল’ অব্যাহত রাখে তাহলে বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারের পুরো শক্তি ব্যবহার করে রাশিয়া প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে পুতিনের এমন হুঁশিয়ারির পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে সংলাপে বসার পাশাপাশি পরামর্শ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলার উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন, ইউক্রেন সংকটে চীনের অবস্থান সুসংগঠিত এবং পরিষ্কার।

এর আগে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো রিজার্ভ সৈন্যদের ফের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, যদি আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখোমুখি হয়, তাহলে আমাদের জনগণকে রক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব উপায়ের ব্যবহার করবো। এটা কোনও ধাপ্পাবাজি নয়। রাশিয়ার কাছে ‘জবাব দেওয়ার মতো বিপুল অস্ত্র’ আছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, রিজার্ভ বাহিনীর আংশিক সমাবেশে তিন লাখ সৈন্যকে ডাকা হবে এবং যাদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা আছে তাদের মোতায়েন করা হবে।

পুতিনের আংশিক সমাবেশের এই ঘোষণা ইউক্রেন ঘিরে যে সমংঘাত চলছে তা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। আর পুতিন এই ঘোষণা এমন এক সময় দিয়েছেন যখন ইউক্রেনীয়দের পাল্টা আক্রমণে রুশ সৈন্যরা পিছু হটতে এবং কিছু দখলকৃত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিলিয়ান কিগান স্কাই নিউজকে বলেছেন, স্পষ্টতই এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের খুব গুরুত্বসহ নেওয়া উচিত। কারণ, আপনি জানেন আমরা নিয়ন্ত্রণে নেই। তিনিও সত্যি নিয়ন্ত্রণে আছেন কিনা আমি সেটিও নিশ্চিত নই।

পুতিন বলেছেন, পশ্চিমারা রাশিয়াকে ধ্বংস করতে চায় এবং ইউক্রেনে শান্তি চায় না। মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য, এর সার্বভৌমত্ব (…), আমি আংশিক সৈন্য সমাবেশের বিষয়ে রুশ সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা প্রয়োজন বলে মনে করি।

এই নির্দেশনার ফলে যারা কোন একসময় রুশ সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন বা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর জন্য সেই সব সংরক্ষিত সৈন্যদের এখন যুদ্ধ করার জন্য ডেকে পাঠানো হবে।

ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার মাতৃভূমি, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা আর জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করার তিনি সৈন্য সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ (বুধবার) থেকেই সৈন্য সমাবেশ শুরু হয়ে যাবে।

পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তার লক্ষ্য পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলকে ‘মুক্ত করা’ এবং এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ ইউক্রেনের ‘দাস’ হিসাবে আর ফিরে যেতে চায় না।

ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, যারা সামরিক বাহিনীতে এর আগে কাজ করেছেন, সেই সংরক্ষিত বাহিনীর সৈনিকদের সেনাবাহিনীকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার অনেক যুদ্ধাস্ত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। রাশিয়ার অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্যও তিনি বাড়তি তহবিল বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন।

রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের বিশাল অঞ্চলে মস্কোর অনুগত নেতাদের ডাকা গণভোটের প্রতি নিজের সমর্থনও ঘোষণা করেছেন পুতিন।

রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্ক এবং দোনেতস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচনা করে। ২০১৪ সালে মস্কো আংশিকভাবে এই অঞ্চলের কিছু অংশ দখল করে নেয়। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ান বাহিনীর হাতে থাকা ইউক্রেনের সকল অংশকেই অবৈধভাবে দখল করা বলে মনে করে।

লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিজিয়াকে রাশিয়ার সাথে যুক্ত করতে মস্কোর অনুগত নেতারা ওই গণভোটের ডাক দিয়েছেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top