রক্তের ক্যান্সার লিম্ফোমার লক্ষণ ও চিকিৎসা

121037_bangladesh_pratidin_Lymphoma.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট  : আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব লিম্ফোমা দিবস। ২০০৪ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিবছর  প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ মানুষ লিম্ফোমায় আক্রান্ত হয়। এদের অধিকাংশেরই রোগ নির্ণয়ে কিছুটা দেরি হয়। কারণ প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পাবার পরও রোগীরা সাধারণত অপেক্ষা করে, নিজে নিজেই ভাল হয়ে যায় কিনা সেই আশায়। মূলত ডাক্তারের কাছে যাবার অনীহা, রোগ নির্ণয়ের যথাযথ সুবিধার অভাব, অসচেতনতাই এর কারণ৷ তাই এবারের প্রতিপাদ্য “We can’t wait”।

লিম্ফোমা সচেতনতায় সবার আগে জানা দরকার লিম্ফোমা কি?

লিম্ফোমা হলো রক্তের বিশেষ এক প্রকারের ক্যান্সার যা মূলত লিম্ফনোড বা লসিকা গ্রন্থিগুলোকে আক্রান্ত করে। রক্তের প্রধান উপাদান দুটি। রক্তরস ও রক্তকোষ। রক্তের বিভিন্ন কোষীয় উপাদানের একটি হলো লিম্ফোসাইট, যা মূলত এক প্রকার শ্বেতরক্তকণিকা।

এর প্রধান কাজ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ করা। বিভিন্ন কারণে এই লিম্ফোসাইটের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে দেখা দেয় লিম্ফোমা নামক ক্যান্সার। লিম্ফোসাইট যেসব অঙ্গে তৈরি ও বৃদ্ধি হয় এসব অঙ্গের মধ্যে রয়েছে লিম্ফনোড, স্প্লিন (প্লিহা), টনসিল ইত্যাদি। লিম্ফনোড শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। সুস্থ অবস্থায় এদের তেমন বোঝা যায় না। কিন্তু কোনো কারণে আকার বড় হলে তা বোঝা যায়। শরীরের বিভিন্ন অংশে লিম্ফনোডগুলো ছড়িয়ে আছে। তবে গলার দুই দিকে, ফুসফুসের দুই পাশে ও পেটের অভ্যন্তরে এর উপস্থিতি বেশি বোঝা যায়।

লক্ষণ : শরীরের কোনো এলাকায় লিম্ফনোড বা অন্য কোনো লিম্ফেটিক অঙ্গ অস্বাভাবিক বড় হতে থাকে। ফুলে যাওয়া লিম্ফনোডগুলো রাবারের মতো নরম ও ব্যথাহীন হয়। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ও রাতের বেলায় প্রচুর ঘাম হয়। লিম্ফোমার জ্বর হয় সাধারণত অনিয়মিত ধরনের। মানে আসে আবার চলে যায়। জ্বরের মাত্রা কখনো খুব বেশি হয়, কখনো সামান্য। এই লক্ষণগুলোর অধিকাংশই যক্ষ্মার সঙ্গে মিলে যায় যা বিশেষ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হয়।

প্রকার : মূলত দুই প্রকার। হজকিনস লিম্ফোমা ও নন হজকিনস লিম্ফোমা। এর মধ্যেও অনেক সুক্ষ্ম রকমফের আছে।

এদেরে চিকিৎসায়ও বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

কারণ : অন্যান্য ক্যান্সারের মতো লিম্ফোমার কারণও নানাবিধ। অনেকটাই অজ্ঞাত। তবে কিছু কিছু জীবাণু যেমন- হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়া, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, এইডস, ইবস্টেইন বার ভাইরাস ইত্যাদি কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। রেডিয়েশন, টিস্যুর অন্যান্য রোগের পরোক্ষ প্রভাব ইত্যাদিও কারণ হিসেবে কাজ করে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা : আক্রান্ত লিম্ফনোড থেকে টিস্যু কেটে নিয়ে বায়োপ্সী করাই হলো লিম্ফোমার প্রধান পরীক্ষা। ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি নামক একপ্রকার উন্নত পরীক্ষায় এটি আরও নিশ্চিত হওয়া যায়।  সাবটাইপগুলোকেও ভালভাবে আলাদা করা যায়। রোগের স্টেইজ বোঝার জন্য এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান, পেট-সিটিস্ক্যান, বোনম্যারো পরীক্ষা ইত্যাদি করা হয়। এছাড়াও সার্বিক অবস্থা বোঝার জন্য রক্তের রুটিন পরীক্ষার পাশাপাশি  অন্যান্য কিছু পরীক্ষাও করা হয়।

লিম্ফোমার চিকিৎসা : লিম্ফোমার মূল চিকিৎসা কেমোথেরাপি। স্টেজিংয়ের ওপর নির্ভর করে এবং আক্রান্ত লিম্ফনোডের সাইজ ও অবস্থান বিবেচনা করে রেডিওথেরাপিও দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপিতে ভালো না হলে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হলে ৭০-৯০ ভাগ লিম্ফোমা ভালো করা সম্ভব। বাংলাদেশেই লিম্ফোমার চিকিৎসা সম্ভব। চিকিৎসা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। কেমোথেরাপির অধিকাংশ ওষুধ বাংলাদেশেই তৈরি হয়। লিম্ফোমার অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনও বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরে সফলতার সঙ্গে চলছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top