জাতীয় লিগের মান বাড়াতে বিসিবিকে নান্নুর প্রস্তাব

Nannu-samakal-5e007ad6cb285.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় লিগ গত ২২ বছরে শক্তিশালী ভিত্তি পেয়েছে- এই দাবির পক্ষে বাজি ধরার লোক না পাওয়া গেলেও দুর্বলতা দেখিয়ে দেওয়ার লোকের অভাব হবে না। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ পরিণত হয়েছে বিসিবির রুটিন কাজে। প্রতিবছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে খেলা শুরু করে শেষ করাই লক্ষ্য থাকে। পারফরম্যান্স বা লিগের মান নিয়ে জবাবদিহি করতে হয় না কাউকেই। লিগটা সেভাবে গড়েও তোলা হয়নি। তার ওপর লিগের দুটি ধাপ (টায়ার) করায় ম্যাচ সংখ্যা কমে গেছে। নিয়মিত হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে খেলা হলেও সাতটি করে ম্যাচ হতো।

সব কিছু পর্যালোচনা করে বিসিবির কাছে প্রথম শ্রেণির লিগের সংস্কারের লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অনূর্ধ্ব-২৩ দল গঠন, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ খেলা, দৈনিক ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের সম্মানী ও দুই বছরের জন্য কোচিং স্টাফ নিয়োগের সুপারিশ রেখে প্রস্তাবনা তৈরি করে বিসিবিতে জমা দিয়েছেন তিনি। নান্নু জানান, পরের মৌসুম থেকে ধাপে ধাপে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

দেশে আটটি বিভাগ থাকলেও জাতীয় লিগ খেলে সাতটি বিভাগীয় দল। অষ্টম দল ঢাকা মেট্রো। ঢাকা মেট্রো বিলুপ্ত করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় দল করার সুপারিশ করেছেন নান্নু। ময়মনসিংহ দল করা হলে মাহমুদুল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রকিবুল হাসান, শুভাগত হোম, রাকিবুল হাসান, মুনিম শাহরিয়ার, পিনাক ঘোষ, আবু হায়দার রনি, জোবায়ের হোসেন লিখন, আব্দুল মজিদরা আরও বেশি আন্তরিকতা নিয়ে খেলতে পারবেন।

তবে খেলোয়াড় থাকলেই হবে না, বিসিবির গঠনতন্ত্রে ময়মনসিংহ বিভাগকে জাতীয় লিগে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নান্নুর প্রস্তাবনায় প্রতিটি বিভাগে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় লিগের দলের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় লিগের সমান্তরালে চলবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলা। প্রথম শ্রেণির দল হোম ম্যাচ খেললে ২৩ দল খেলবে অ্যাওয়ে ম্যাচ। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে তিনজন করে সিনিয়র ক্রিকেটার থাকবেন। ২৩ দল থেকে খেলোয়াড় নিতে পারবে সিনিয়র দল। সে ক্ষেত্রে সিনিয়র দল থেকে অবনমন করা হবে খারাপ খেলা ক্রিকেটারদের। তিন দিনের ম্যাচ খেলবে ২৩ দল। প্রথম ইনিংস ১০০ ওভারের, দ্বিতীয় ইনিংস ৪০ ওভারের। এতে করে টেস্ট এবং ওয়ানডে দুই সংস্করণের ম্যাচে উত্তেজনা থাকবে।

১৯৯৯ সালে জাতীয় লিগ চালু করা হয়েছিল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলার পরিকল্পনায়। তাতে করে ভিন্ন কন্ডিশনে খেলা অভ্যাসে পরিণত করার পাশাপাশি বেশি ম্যাচ খেলতে পারতেন ক্রিকেটাররা। গত কয়েক বছরে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে খেলার নিয়ম অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে। বিভাগীয় দলগুলোর কোচিং স্টাফও নেই সেভাবে। লিগ শুরুর এক সপ্তাহ আগে বিসিবির কোচরা বিভাগীয় দলে যোগ দেন। দুই বছরের জন্য কোচিং স্টাফ নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন নান্নু।

প্রতিটি বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আবাসন সুবিধার পাশাপাশি নূন্যতম চারটি করে আউটার পিচ তৈরি করে দুটিতে ফাস্ট বোলিং কন্ডিশন, একটি ব্যাটিং ও অন্যটি স্পিন ট্র্যাক রাখতে হবে। জিম, ইনডোর সুবিধা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক। দুই টায়ার তুলে দিয়ে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে নিয়মে ম্যাচ খেলার সুপারিশ রাখা হয়েছে প্রস্তাবনায়। জাতীয় লিগে টায়ার ওয়ানের ম্যাচ ফি বর্তমানে ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় টায়ারের ৪০ হাজার টাকা। দু’দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও পুরো ম্যাচ ফি পান ক্রিকেটাররা। নতুন প্রস্তাবে দিনের ভিত্তিতে ম্যাচ ফি নির্ধারণ করতে বলা হচ্ছে। প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা করে হবে ম্যাচ ফি। ম্যাচ তিন দিন খেলা হলে জয়ী দলের ক্রিকেটাররা পুরো চার দিনের সম্মানী পাবেন। পরাজিত দল পাবে তিন দিনের ম্যাচ ফি।

জাতীয় লিগ নিয়ে কেন এই প্রস্তাব- জানতে চাওয়া হলে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা গেলে লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে যাবে। কোচিং স্টাফের জবাবদিহি থাকবে। কেউ খারাপ করলে নিচে নেমে যাবেন, ভালো করলে বয়সভিত্তিক দল থেকে সিনিয়র দলে আসবেন। ম্যাচ ফির জন্য হলেও জিততে চেষ্টা করবেন খেলোয়াড়রা। বিসিবি আমার প্রস্তাবটা নিয়েছে। ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। বিভাগীয় ক্রিকেট কমিটি বানাতে হবে প্রথমে। জাতীয় লিগের উন্নতি করতে হলে এই প্রক্রিয়ায় যেতেই হবে। আট দল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে খেললে ১৪টি করে ম্যাচ পাবে। ম্যাচ বেশি খেললে ক্রিকেটাররা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনি বেশি ম্যাচ খেলায় পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে।’

ভারতের রঞ্জি ট্রফিতেও দিনের হিসাবে ম্যাচ ফি দেওয়া হয়। যদিও সম্মানী ভালো, ৩৫ হাজার রুপি। চার দিন খেলা হলে এক লাখ ৪০ হাজার রুপি। যেটা বেড়ে দুই থেকে আড়াই লাখ রুপি করার উদ্যোগ নিয়েছে বিসিসিআই। বাংলাদেশে সম্মানী না বাড়ালেও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে আট দলের এক টায়ারে খেলা হলে লাভই হবে দেশের ক্রিকেটের।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top