আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত পাট চাষ, অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

Screenshot_2020-09-15-আম্পানে-ক্ষতিগ্রস্ত-পাট-চাষ-অর্জিত-হয়নি-লক্ষ্যমাত্রা-banglatribune-com.png

ঘূর্ণিঝড় আম্পান, অতি বর্ষণ এবং শিলা বৃষ্টির কারণে সাতক্ষীরায় চলতি মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এছাড়া অধিক তাপমাত্রা আর সময়মতো প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কারণে বেশিরভাগ ক্ষেতে পাটের চারা গজাতে পারেনি। এ কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষি অফিস ও কৃষকরা।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয় ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জেলায় পাটের আবাদ করা হয়েছে ১১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় ৭৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হ্রাস পেয়েছে।

চলতি মৌসুমে জেলার সাতটির মধ্যে ছয়টি উপজেলায় পাট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার বেল। কৃষি বিভাগের দাবি, বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে উৎপাদনের মান ভালো। চলতি মৌসুমে জেলা কৃষি বিভাগ হেক্টর প্রতি ১২ বেল পাট উৎপাদন হবে ধারণা করছেন।

সাতক্ষীরা সদরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের পাটচাষি আবু বকর সিদ্দীক বলেন, এই এলাকার অনেক কৃষক পাট চাষ করেছিলেন। কিন্তু আম্পান, অতি বর্ষণ এবং শিলা বৃষ্টির কারণে পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উঁচু এলাকায় কিছু পাট হয়েছে। তবে পাটখড়ি ও পাটের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। পাটখড়ির গল্লা ৬০-৭০ টাকা এবং প্রতি মণ পাট ২৪০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত। ভালো দামের কারণে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যাবে।

সদরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের পাটচাষি শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমি পাট চাষ করার আগে অগ্রিম টাকা নিয়ে চাষ করেছিলাম। যা পাট হবে তাকে সব দিতে হবে সেই শর্তে। তবে পাটখড়ি আমার থাকবে।’

বিঘা প্রতি জমিতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার পাটখড়ি বিক্রি করেছি। জেলায় পানের বরজ, ঘেরে সবজি চাষ ও জ্বালানি হিসেবে পাঠখড়ির চাহিদা বরাবরই আছে। পাটের চেয়ে পাটখড়ির চাহিদা ও দাম বেশি সে কারণে আমার পুষিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, আম্পানে পাটের ব্যাপক ক্ষতি। করোনা পরিস্থিতির কারণে সঠিক সময়ে কৃষকদের কাছে বীজ পৌছে দিতে পারিনি সে কারণে কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
এছাড়া উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং কিছু এলাকায় লবণাক্ততার কারণে পাট চাষ কিছুটা কম হয়েছে। এ সময় কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ায় তারপরও ভালো ফলন হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে পাট লাগানের সময় আম্পান এবং পরবর্তীতে অতিবৃষ্টির কারণে পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। তবে পাটের দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা খুশি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাটখড়ির কথা বিবেচনা করে জেলায় চারকোল স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে। যাতে চাষিদের মাঝে পাট চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!