নরওয়ের জাতীয় নির্বাচনে রক্ষণশীলদের ভরাডুবি, সমাজতন্ত্রীদের জয়

013716Norway_kalerkantho_pic.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : গত সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নরওয়ের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পর রক্ষণশীল ডানপন্থী দলের প্রধান এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গকে তার অফিস ছাড়তে হলো এবং নরওয়ের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেবার পার্টির প্রধান জোনাস গহর স্টোর শপথ নিতে যাচ্ছেন। লেবার পার্টি, সমাজতান্ত্রিক বাম দল এবং সেন্টার পার্টি নিয়ে গঠিত জোট সংসদের মোট ১৬৯টি আসনের মধ্যে মোট ৮৯টি আসন জয় লাভ করে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ঘণ্টা দু’য়েক পরে সোমবার গভীর রাতে রক্ষণশীল ডানপন্থী দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ পরাজয় স্বীকার করেন এবং আট বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি স্থানীয় সময় রাত ১১টায় জোনাস গহর স্টারকে ফোন করে তার নির্বাচনী জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে জয়ী লেবার পার্টি ২০১৭ সালের নির্বাচনে পেয়েছিল ২৭.৪ শতাংশ ভোট যা এবারের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ বেশি। অপরদিকে ক্ষমতাসীন রক্ষনশীল ডানপন্থী দল গতবারের চেয়ে এবার প্রায় ৫ শতাংশ ভোট কম পাওয়ায় ক্ষমতায় যেতে ব্যর্থ হয়।

এবার মোট ১০টি দল বিভিন্ন সংখ্যক আসন নিয়ে নরওয়ের জাতীয় সংসদে (স্টুরটিং) জায়গা করে নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় নরওয়েজিয়ান নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী লেবার পার্টি ২৬.৪ শতাংশ, রক্ষণশীল ডানপন্থী দল ২০.৫ শতাংশ, সেন্টার পার্টি ১৩.৬ শতাংশ, প্রগতি পার্টি ১১.৭ শতাংশ, সমাজতান্ত্রিক বাম দল ৭.৫ শতাংশ, লাল দল ৪.৭ শতাংশ, বাম দল ৪.৫ শতাংশ, ক্রিশ্চিয়ান পিপলস পার্টি ৩.৮ শতাংশ, গ্রিন পার্টি ৩.৮ শতাংশ এবং পেসেন্টফোকাস নামের দলটি ০.২ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

সুইডেনে সংসদে আসন পেতে হলে প্রতিটি দলকে মোট ভোটের ন্যূনতম ৪ শতাংশ ভোট পেতে হয়। তবে প্রতিবেশী দেশ নরওয়ের ক্ষেত্রে সে আইন প্রযোজ্য নয়। ৪ শতাংশের চেয়ে কম ভোট পেলেও নরওয়ের ছোট দলগুলো সেদেশের সংসদে আসন লাভ করতে পারে। এছাড়াও নরওয়ের নির্বাচনে মোট ১১টি নির্বাচনী জেলা থেকে সংসদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৫০টি আসনে সরাসরি নির্বাচিত হয়ে আসতে হয়। বাকি ১৯টি আসন সরকার গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ১৯টি আসনের জন্য লড়াই করে। এর মানে হলো যে পেসেন্ট-ফোকাসের মতো দল, যারা একটি স্থানীয় একটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এবং তাঁদের মূল দাবি হলো- ’উত্তর নরওয়ের আলতা পৌরসভায় একটি হাসপাতাল তৈরি করা’। তাঁরা ০.২ শতাংশ ভোট পেয়েও জাতীয় সংসদে আসন লাভ করতে পারবে। পরিবেশবাদী গ্রীন পার্টি এবং ক্রিশ্চিয়ান পিপলস পার্টিও কম ভোট পেয়ে তিনটি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ নির্বাচনে পরাজয়বরণ করেন বলেন, ’এই আট বছরে আমরা যা অর্জন করেছি তাতে আমি অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত। আমি বিশ্বাস করতাম, ক্ষমতায় তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হওয়াটা হবে একটা অলৌকিক ঘটনা। সেই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেনি। এই আট বছরে আমি যা অর্জন করেছি তাতে আমি অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত। কিন্তু ভোটের ফলাফল বলে দিচ্ছে যে, জনগণ চাচ্ছেন ভবিষ্যতে অন্যান্য দল নরওয়ে শাসন করবে।’

নির্বাচনে জয়ী হয়ে নরওয়ের ভবিষ্যত নতুন প্রধানমন্ত্রী লেবার পার্টির প্রধান জোনাস গহর স্টোর বলেন, ’আজ আমি এমন একটি দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে চাই যারা দলের কর্মীবাহিনীতে যোগ দিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে এনেছে। ছয় মাস আগেও যখন আমরা বিভিন্ন জরিপের রিপোর্টে খারাপ নম্বর পেয়েছিলাম, সে অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ভিন্ন কিছু হতে পারতো। কিন্তু আমরা দলের নীতি এবং দিকনির্দেশনায় একমত হয়ে কাজ করেছি এবং জয় ছিনিয়ে এনেছি’।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top