বরিশালে হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন

11-jatioarthonitee-02052021.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালে বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দাদা বাহিনীর দুজনকে ফাঁসি এবং চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক টিএম মুসা এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর লস্কর নুরুল হক। তিনি বলেন, দাদা বাহিনীর প্রধান জিয়াউল হক লালন ও রিয়াদ সরদারকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ এবং মামুন, ইমরান, বিপ্লব পাটনী, ওয়াসিম সরদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। এই মামলায় আরও ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

তবে খালাস প্রাপ্ত আসামিদের রায়ের বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন নিহতের বাবা ফারুক হোসেন সেরনিয়াবাত। তিনি বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে যারা বেকসুর খালাস পেয়েছেন তারাও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশ কপি পেলে তা নিয়ে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি, হত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে উচ্চ আদালত তাদের শাস্তি দেবেন।

সোহাগের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, রায়ে খুশি হয়েছি। তবে খালাসপ্রাপ্ত ১০ জনের সাজা দিলে আরও ভালো হতো। তারাও আমার ছেলের হত্যায় জড়িত ছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদরের রাখালতলা ভিআইপি রোডের মোশাররফ হোসেনের বাড়ির সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ সেরনিয়াবাতকে কুপিয়ে হত্যা করে লালন বাহিনী। এ ঘটনায় নিহতের মামা খোরশেদ আলম নান্টু বাদী হয়ে ওই থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ২২ নভেম্বর ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন খান।

তদন্তে উঠে আসে, আসিমি রিয়াদ ও নিহত সোহাগ সেরনিয়াবাত ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকায় পরস্পরের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। সেই সুবাদে রিয়াদের স্ত্রী ফৌজিয়া নাভিন অভির সঙ্গে পরকীয়া সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়েন। ওই দম্পতির ইছানুর অভি নামে একটি ছেলে সন্তান ছিল। তবে সোহাগ সেরনিয়াবাতের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে রিয়াদকে ছেড়ে সোহাগের সঙ্গে চলে আসেন।

এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে রিয়াদ অবশেষে যোগ দেন মাধবপাশা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক লালনের দাদা বাহিনীতে। এই বাহিনীতে যোগ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সোহাগ সেরনিয়াবাতকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম নামে সোহাগের আরেক বন্ধু গুরুতরর আহত হয়।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top