সড়ক সংস্কারের কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও

image-345052-1600164805.jpg

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজিবাজার দরগাহগেট থেকে বাঘাসুরা কালীবাজার সড়কের কার্পেটিংয়ের সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও হয়ে গেছে।

এক বছরেও সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি অফিসসূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের জন্য কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উভয় পাশে মাটি খুঁড়ে গর্ত করা ও পুরনো কার্পেটিং তুলে কিছু দিন পরই কাজ বন্ধ করে দেয়।

এতে করে রাস্তার গর্তে পানি আটকে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বাঘাসুরাসহ পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন।মাধবপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসসূত্রে জানা গেছে, শাহজিবাজার-বাঘাসুরা কালীবাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কে সংস্কারকাজের কার্পেটিংয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এ রাস্তায় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। ডলি কন্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের কাজ পেয়ে অনেক দেরিতে কাজ শুরু করে।টেন্ডার নির্দেশনা মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সড়কের পাশে কিছু গর্ত ও কার্পেটিং তুলে কাজ শুরু করার কিছু দিন পরেই কাজ সম্পন্ন না করে মাঝপথে কাজ রেখে চলে যায়। ফলে এই ভাঙাচোরা রাস্তায় জনগণের চলাচলের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন আহম্মেদ জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কার না করায় এখন জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য বারবার বলার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী রাস্তাটি সংস্কারের জন্য মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এর পরেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের টনক নড়েনি।

চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন আরও বলেন, সড়কটি সংস্কার করার জন্য উপজেলা, জেলা ও ঢাকায় এলজিইডি সদর দফতরে একাধিকবার কথা বলেছি। এমনকি মাধবপুর-চুনারুঘাট আসনের সংসদ সদস্য ও বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীকেও একাধিকবার অবগত করেছি।

তিনি এলজিইডিকে বলার পরও ঠিকাদার সড়কের সংস্কারকাজ করতে আসেননি।

ডলি কন্ট্রাকশনের একটি সূত্র জানান, করোনার কারণে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার চৌধুরী বলেন, সময়মতো কাজ শেষ না করায় ডলি কন্ট্রাকশনের টেন্ডার বাতিলের জন্য ঢাকা প্রধান প্রকৌশলী কার্যালয়ে বহু আগেই চিঠি দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করে সড়কের কার্পেটিং ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!