তদন্তদলের হাতে ১৪ লাখের বেশি তথ্য-উপাত্ত

030737Myanmar_kalerkantho_pic.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট  : মিয়ানমারে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন আন্তর্জাতিক আইনে ‘ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ (মানবতাবিরোধী অপরাধ) বলে বিবেচিত হতে পারে বলে বিশ্বকে সতর্ক করেছে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কাঠামো (আইআইএমএম)। গতকাল সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে আইআইএমএমপ্রধান নিকোলাম কৌমজিয়ান এই সতর্কতা দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর অন্যায়ভাবে বলপ্রয়োগ, পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার, নির্যাতন, গুম ও হত্যার অভিযোগ পেয়েছেন। অভ্যুত্থানের পর দুই লাখ ১৯ হাজারেরও বেশি তথ্য- উপাত্ত তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। আর এ পর্যন্ত তাঁরা মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১৪ লাখের বেশি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।

রোহিঙ্গা জেনোসাইডের অভিযোগের পটভূমিতে মিয়ানমারে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ আইআইএমএম গঠন করেছে। আইআইএমএম ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং মামলার জন্য ফাইল প্রস্তুত করছে।

আইআইএমএমপ্রধান নিকোলাম কৌমজিয়ান জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে জানান, তাঁরা এসব তথ্য-উপাত্ত, প্রমাণ ও সাক্ষ্য আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতকে (আইসিজে) সরবরাহ করা শুরু করেছেন। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর নির্মূল অভিযানের চার বছর পরও লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের বাড়ি ফেরার আস্থা স্থবির হয়ে আছে। অনেক বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে মাটির সঙ্গে।

তিনি বলেন, মর্মান্তিকভাবে মিয়ানমারে এখনো গুরুতর অপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধের দায়মুক্তির ইতিহাস জনগণের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন অঞ্চল ও নৃগোষ্ঠীগুলোর নারী, শিশু ও পুরুষরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েক হাজার লোক পালিয়েছে। মিয়ানমারের সমস্যার প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর। মিয়ানমারে সহিংসতার বৃত্ত ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান হওয়া প্রয়োজন।

আইআইএমএম জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুন, নেপিডো, বাগো, মান্দালয়, মাগওয়ে ও সাগাইংসহ বিভিন্ন শহরে প্রায় এক হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সাংবাদিক, চিকিৎসক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে তাদের টার্গেট বানিয়েছে, এমন প্রমাণ মিলেছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে শুরু হওয়া অধিবেশন এবং মিয়ানমার নিয়ে আলোচনায় মিয়ানমারের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। জাতিসংঘে মিয়ানমারের জান্তা, না নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জান্তাবিরোধী সর্বদলীয় জাতীয় ঐক্য সরকার প্রতিনিধিত্ব করবে, তার সুরাহা হয়নি। জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন শুরুর পর বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে।

অন্যদিকে সু চির সরকারের নিয়োগ করা জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও মো তুনকে বৈধ রাষ্ট্রদূত হিসেবে মেনে নেওয়ার দাবিতে গতকাল নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে কয়েক শ মিয়ানমারের নাগরিক শোভাযাত্রা করেছে। এ সময় তারা জাতীয় ঐক্য সরকারকে মেনে নেওয়ার এবং জান্তাকে প্রত্যাখ্যান করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায়।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top