মাঠ পর্যায়ে নয়, ডিজিটালভাবে হবে জনশুমারি: পরিকল্পনামন্ত্রী

mannan-minister-2109140659.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, এবার জনশুমারি প্রকল্প নিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে আর মাঠ পর্যায়ে জনশুমারি চাই না৷ এরপর থেকে আমি আশা করবো ডিজিটালভাবে জনশুমারির কাজ চলবে।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে (২০২১) করোনার কারণে পিছিয়ে গেলো জনশুমারির কার্যক্রম।  ২৩ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে জনশুমারি ও গৃহগণনার পরিকল্পনা ছিল। তবে এটি ৯ মাসের মতো পিছিয়ে অক্টোবরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর জনশুমারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।  এই এক সপ্তাহের মধ্যে সারা দেশের মানুষকে গণনার আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল।  অথচ এই সময়ে শুমারি হচ্ছে না।  নানা কারণে বার বার সময় বৃদ্ধি ও টেন্ডারের ঝামেলার কারণে মাঠ পর্যায়ে আর শুমারি চাই না।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ কার্যক্রম প্রকল্পের ধীরগতি প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কোভিডের কারণে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। জনশুমারির সময় আবারও পেছাবে। অক্টোবরে শুমারির কাজ হবে না। বিষয়টি আমি সরকার প্রধানকে অবহিত করবো। উনার দিক নির্দেশনা নেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা সঠিক জনশুমারি করতে পারবো।  আমরা মাঠ পর্যায়ে আর শুমারি করবো না। মাঠ পর্যায় থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য আনা অনেক ঝামেলা।  প্রকল্পে কেনাকাটা ও টেন্ডার করা আরও ঝামেলা।  আমার বিশ্বাস এমন একটা সময়ে যাবো যখন আর টেন্ডার করা লাগবে না।  আঙ্গুলে ক্লিক করলেই জানতে পারবো তথ্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে আর জনশুমারি করতে হবে না।  জনশুমারির জন্য ১০ বছর অপেক্ষাও করা লাগবে না।  এক সময় ঘড়ির কাটার মতো আমাদের সামনে টিক টিক করবে জনশুমারির তথ্যও।  এক ক্লিকেই মাথা গুণতির খবর আমাদের সামনে আসবে।

জনশুমারি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বিশ্বাস একটা নিখুঁত না হলেও কাছাকাছি নিখুঁত শুমারি করতে পারবো। জনশুমারি একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ।  দেশের নানা পরিকল্পনা নির্ভর করে জনশুমারির উপর। দেশের কোথায় কি পরিকল্পনা করতে হবে, খাদ্য চাহিদা কতো, শিক্ষা ব্যবস্থায় কি ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে সবই নির্ভর করে জনশুমারির উপর।

শুমারি বাস্তবায়নে মৃতব্যয়ী হতে হবে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, কাজ করতে গিয়ে মৃতব্যয়ী হতে হবে। যেখানে ১ পয়সা ব্যয় করতে হবে সেখানে সোয়া পয়সা নয়। আবার যেখানে ১ পয়সা লাগবে সেখানে আধা পয়সাও খরচ করা যাবে না।  কাজ করতে গিয়ে সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম,   বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) প্রতিনিধি ড. আশা টরকেলসন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top