কয়রায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

031831EC-01_kalerkantho_pic.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার কয়রায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ভোট গ্রহণের জন্য এসব কর্মকর্তা নিয়োগে পদমর্যাদা কিংবা বেতনের গ্রেড অনুযায়ী সিনিয়র জুনিয়র বিবেচনা না করা, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ, কর্মস্থলের ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রে পোস্টিং, নিজের ভোটার এলাকা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বের কেন্দ্রে পোস্টিংসহ যে ইউনিয়নের ভোটার সেই ইউনিয়নেই দেয়া হয়েছে অনেকের ভোট গ্রহণের দায়িত্ব। উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী আব্দুর রহমানের যোগসাজসে এসব অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে গ্রেড অনুযায়ী যথাযথ নিয়োগ না পাওয়া একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে জুনিয়রের আওতায় কাজ করতে আগ্রহী না হওয়ায় অব্যাহতি দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

অপরদিকে একই ইউনিয়নের ভোটাররা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পাওয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যেও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রথম ধাপের স্থগিত হওয়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে উপজেলার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩১৩ জন ভোটারের ভোট গ্রহণের জন্য ৬৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৬৫ জনকে প্রিজাইডিং, ৪৯৫ জনকে সহকারী প্রিজাইডিং ও ৯৯০ জনকে পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

জানা যায়, ভোট গ্রহণ অফিসার নিয়োগে সরকারী কলেজের প্রভাষকসহ বিএম শাখা ও আলীম মাদ্রাসায় কর্মরত প্রভাষককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে নিম্ন র্যাংকের কর্মকর্তার আওতায় সহকারী প্রিজাইডিং এর দায়িত্ব। এমনকি একাধিক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার আওতায় পোলিং অফিসার রাখা হয়েছে উচ্চ গ্রেডে কর্মরত ব্যক্তিদের। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের ১৪ থেকে ১৬ গ্রেডে কর্মরতদেরকে রাখা হয়েছে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে।

অন্যদিকে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০ থেকে ১২ গ্রেডে কর্মরতদের দেয়া হয়েছে পোলিং অফিসারের দায়িত্ব। ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে দেড় শতাধিক ব্যক্তি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত অফিস সহকারী আব্দুর রহমানের যোগসাজসে নিজের ইউনিয়ন এমনকি বসবাসের স্থান থেকে মাত্র এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বের কেন্দ্রে পড়েছে ভোট গ্রহণের দায়িত্ব। মহেশ্বরীপুর ও মহারাজপুরসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তিকে স্ব স্ব ইউনিয়নের কেন্দ্রে পোস্টিং করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক প্রভাষকের বেতন গ্রেড ৭। তাকে দেয়া হয়েছে ৯ গ্রেডের এক কর্মকর্তার আওতায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে। তিনি অভিযোগ দেওয়ার পরে তার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে।

কয়রা মদিনাবাদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক জানিয়েছেন, তিনি ১০ গ্রেড এ বেতন পান। তাকে দেয়া হয়েছে পোলিং অফিসার। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের আওতায় কর্মরত তার থেকে নিচের গ্রেড ( ১৪ থেকে ১৬ গ্রেড) এর একাধিক ব্যক্তিকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার করা হয়েছে। এছাড়া তিনি আরও বলেন, অর্থ ছাড়া কোন কাজ নিয়ে গেলে নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী আব্দুর রহমান খুব দুর্ব্যবহার করেন।

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১২ গ্রেডের একাধিক শিক্ষক জানান, তাদের থেকে নিচের গ্রেডের চাকুরীজীবীদের আওতায় তাদের পোলিং অফিসার দেওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে। তবে প্রতিবাদ করলে ক্ষতি হতে পারে এই শঙ্কায় অনেকেই নিরবে মেনে নিচ্ছেন।

এ বিষ‌য়ে অভি‌যোগ অস্বীকার ক‌রে আব্দুর রহমান ব‌লেন, আ‌মি ছোট কর্মচারী। নিয়ন্ত্রণ করবো কিভা‌বে? তি‌নি আরও ব‌লেন, অ‌ফি‌সের ক‌ম্পিউটার অপা‌রেটররা স‌্যা‌রের নি‌র্দে‌শে সব কাজ ক‌রে‌ছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হযরত আলী জানান, অনেকগুলো কাজ একসাথে করতে যেয়ে একটু এলোমেলো হয়েছে। তবে আমরা যেগুলোর অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আব্দুর রহমান স্থানীয় চেনা-জানা হওয়ায় তাকে এ কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসার এম. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে দায়িত্ব বণ্টনের সময় গ্রেড অনুযায়ী সিনিয়র জুনিয়র দেখতে হবে। কয়রার কিছু সমস্যার কথা শুনেছি। ওরা ভুল করেছে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়ার জন্য বলেছি। আরও অভিযোগ থাকলে সেগুলো উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে পৌঁছালে তিনি ঠিক করে দেবেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top