প্রস্তুত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়েরা

092336promila_brahammonbaria_kk.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘সাবাস সাবাস। এই বলটা বেশ ভালো হইছে। সেইম বলটাই আবার কর। ব্যাটসম্যান ভয় পাইছে। গুড ব্যাটিং, অ্যাক্সিল্টে শট। চালাই যাও। হেব্বি ফিল্ডিং। দারুণ ক্যাচ। ফিল্ডিংটা ভালো হইতেছে। হেব্বি কিপিং। ভালো  ধরতেছো।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ মাঠে প্রবেশ করতেই এ শব্দগুলো কানে ভাসে। সেখানে ক্রিকেট টিমের প্র্যাকটিস হচ্ছে। প্রখর রোদে ঘেমে সবাই একাকার। গাছের ছায়ায় দাঁড়ালে একুট ছায়া মিলতে পারে- সেদিকটায় যেন কারো ভ্রুক্ষেপও নেই। সে যার মতো প্র্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাঠে প্র্যাকটিসে ব্যস্ত ১৭ ক্রিকেটার, যাদের সবাই নারী। স্কুল ও কলেজের ওই শিক্ষার্থীরা তৈরি হচ্ছে ক্রিকেট খেলে মাঠ কাঁপাতে। নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও তারা চালিয়ে যাচ্ছেন প্র্যাকটিস। প্রথমবারের মতো একটি দল হিসেবে ‘সিরিজ’ খেলতে তারা যাবে রংপুরে। চলতি মাসের ২০, ২১ ও ২২ তারিখে তারা সেখানকার নারী ক্রিকেট দলের সঙ্গে রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দলটির নাম ‘খেলো বাংলাদেশ স্পোর্টস সোসাইটি নারী ক্রিকেট দল’। ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর স্পোর্টস সোসাইটি যাত্রা শুরু করে। তবে নারী ক্রিকেট দল নিয়ে যাত্রা শুরু গত মার্চে। ওই সময়ে একটি টি টোয়েন্টি ম্যাচের আয়োজন করে ক্রিকেট টিম গড়ার ডাক দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় প্র্যাকটিস। একে একে শিক্ষার্থীর সংখ্যা গিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ এ। প্রতিনিয়তই ২০ জনের মতো অংশ নিচ্ছে প্র্যাকটিসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম শফিকুল্লাহ এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সার্বিক সহযোগিতা শুরু করলে কাজটি আরো হয় বলে জানালেন স্পোর্টস সোসাইটি সংশ্লিষ্টরা।

বেলা সোয়া তিনটার দিকে সরকারি মহিলা কলেজ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মো. কামাল উদ্দিন নামে এক ক্রিকেটার প্র্যাকটিস করাচ্ছেন। তদারকি করছেন ক্রিকেট দলের ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান শিশির। প্র্যাকটিসে ব্যস্ত রিমা, লিটা, মাসুমা, রিয়া, এ্যানি, আঁখি, চম্পা, নয়ন, সাদিয়া, এসনা, সুমাইয়া, সাফিয়া, নয়ন, রাবেয়া, নাদিয়া, ইসরাত, তাসলিমা ও মুন নামে ১৮ ক্রিকেটার। প্রথমে তারা শারিরিক কসরত করে। প্রায় পৌণে এক ঘন্টা পর নামে ব্যাটিং, ফিল্ডিংয়ে।

মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের কলেজের সায়মা নামে একজন ঢাকায় প্রথম বিভাগে খেলে। ওনাকে দেখেই আমার আগ্রহ বাড়ে। পরিবার থেকেও আমাকে সাপোর্ট দেয়। আমার স্বামী (আজিজুল হক সুমন) এ নিয়ে কোনো আপত্তি করেন না।’

ক্রিকেটার জাফরিন আক্তার রিয়া বলেন, ‘আমার আম্মা ক্রিকেট খেলতে দিতে রাজি নয়। আম্মু বলে মেয়েদের আবার কিসের ক্রিকেট খেলা। কিন্তু আমার আব্বা খেলতে খুব সাপোর্ট দেয়। যে কারণে খেলতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

জাফরিনের সঙ্গে আসা তার ছোট বোন সানজিদা আক্তার জিয়া বলেন, ‘আমি ক্রিকেট খুব পছন্দ করি। আমিও চাই খেলতে। কিন্তু আপুকে খেলতে নিষেধ করে আম্মু। যে কারণে আমি খেলতে পারছি না। তবে কিছু দিনের মধ্যেই শুরু করবো বলে ভাবছি।’

ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রিমা আক্তার বলেন, ‘কলেজ মাঠে প্র্যাকটিসের সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। কোনো ধরণের সমস্যা নেই। আমাদের দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ছে। রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে প্র্যাকটিসের যথেষ্ট সময় পেয়েছি। সেখানে আমরা ভালো করতে পারবো বলে আশা করতে পারি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পরিবার থেকেও এ নিয়ে কোনো চাপ নেই।

দলের কোচ মো. কামাল উদ্দিন জানান, ক্রিকেটাররা নিয়মিতই এখানে আসেন। খুব আগ্রহ নিয়েই তারা প্র্যাকটিস করছেন। এখানে বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। রংপুর সফরে ভালো করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রিকেট দলের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান শিশির বলেন, ‘সুযোগ পেলে নারীরাও ভালো কিছু করতে পারে- এই ক্রিকেট দলটাও হতে পারে এর একটা উদাহরণ। সবচেয়ে বড় কথা হলো ক্রিকেটারদের অভিভাবকরাও এতে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে করে পরিকল্পনা করতে গিয়ে আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো আমরা একটি দল হিসেবে অন্য জেলাতে খেলতে যাচ্ছি। আশা করি সেখানে ভালো ফলাফল করতে পারবো।’

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top