দেবর-ভাবির দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত দিঘলিয়া, পুলিশ মোতায়েন

hulna-20210913151930.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেবর-ভাবির দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত খুলনার দিঘলিয়ার সেনহাটি ইউনিয়ন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারহানা হালিমা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া গাজীর মধ্যে এ দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। জিয়া গাজী সম্পর্কে ফারহানা হালিমের চাচাতো দেবর।

দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এরই মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তেজনা নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সেনহাটী পুলিশ ক্যাম্পের সামনে সেনহাটী ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারহানা হালিমের এক সমর্থকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া গাজীর সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর জিয়া গাজী তার সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ওই এলাকায় আসেন। এ সময় চন্দনীমহল স্টার ২ নম্বর গেট থেকে মোটরসাইকেলযোগে এসে ফারহানা হালিমের সমর্থক মিজান মল্লিক (৪৫), বাবু গাজী (৩৫) ও দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল গাজী (৩০) সেনহাটী পুলিশ ফাঁড়ির সামনে জিয়া গাজীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালান। তারা দুটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেন।

আহতদের প্রথমে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে দৌলতপুর থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে বরইতলা এলাকায় পৌঁছালে সেনহাটি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া গাজীর সমর্থক ফিরোজ আহমেদকে ফারহানা হালিমের লোকজন মারধর করেন। এর পরপরই সেনহাটী পুলিশ ক্যাম্পের সামনে বাবু গাজী, মিজান মল্লিক, দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল গাজীর নেতৃত্বে নৌকা প্রার্থীর সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া গাজীর একাধিক গণসংযোগে হামলা ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ গণসংযোগে থাকা নেতাকর্মীদের মারধর করেন।

এক পর্যায়ে জিয়া গাজীর সমর্থকরা পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল গাজী, বাবু গাজী, মিজান মল্লিক আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় আশরাফ মোল্লা ও মনিরুল গাজীর লোকজন ২ নম্বর স্টার গেটের জিয়া গাজীর সমর্থক মনসুর ও জামালের চায়ের দোকান এবং নজরুলের বাড়ি ভাঙচুর করেন এবং বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে। এ সময় হামলায় কয়েকজন আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারহানা হালিমের বড় ছেলে নিলয় সন্ধ্যায় চহন্দনীমহল বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া গাজীর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেন ও অফিসে থাকা মারুফ নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেন। এসব ঘটনায় এলাকায় দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারহানা হালিমা বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া গাজীর লোকজন আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। আমি এ ঘটনায় মামলা করবো।

স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া গাজী অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। বাড়িঘর, অফিস ভাঙচুর করেছেন।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানউল্লাহ চৌধুরী বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top