ভারতে স্থাপত্যশিল্পের বিকাশে মুসলিম অবদান

2359133_kalerkantho-2021-13-pic-9.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : মুসলিমরা বহির্বিশ্ব থেকে ভারতবর্ষে আরো যা নিয়ে এসেছিল তা হলো প্রতিটি বিষয়ে অধিকতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সমাজ, বাড়ি-বাসস্থান ও পানাহারে সচেতনতা। মুসলিমরাই শিখিয়েছিল স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূলনীতি, ঘরকে আলো-বাতাসে পূর্ণ রাখার কৌশল, আসবাবের পরিচ্ছন্নতা। বেশির ভাগ ভারতীয় গাছের পাতায় খাবার গ্রহণ করত, বিশেষত গণভোজের অনুষ্ঠানগুলোতে। মুসলিমরা ঘর-পরিবারের ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। স্থাপত্যশিল্পেও মুসলিমরা নতুন যুগের সূচনা করে, যা মৌলিকত্ব, সূক্ষ্মতা, সৌন্দর্য, উপযোগিতা, উৎকর্ষ, আলো-বাতাসের সরবরাহের বিচারে ছিল বিশেষ মর্যাদাশীল। প্রকৌশল বিদ্যা ও স্থাপত্য শিল্পে ‘তাজমহল’ এখনো মহাবিস্ময়, যা এখনো মুসলিম যুগের স্মৃতি বহন করে আছে। তাজমহলই বলে দেয় স্থাপত্যশিল্পে মুসলিমদের শিল্পবোধ ও রুচি, সূক্ষ্মানুভূতি ও সৃজনশীলতা কোথায় পৌঁছেছিল। জওয়াহেরলাল নেহরু স্বীকার করেছেন যে ভারতবর্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে এবং এ দেশের সংস্কৃতিতে মুসলমানের গভীর ও বিস্তৃত প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই ভারতে ইসলাম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের আগমন, যারা নিজেদের সঙ্গে বিচিত্র চিন্তাধারা ও জীবনপদ্ধতি বয়ে এনেছিল তা ভারতবর্ষের ধর্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করেছে। বহিরাগতদের বিজয়—হোক তারা উন্নত জাতি বা সমপর্যায়ের কল্যাণমুক্ত ছিল না। তা মুক্তচিন্তার আকাশকে বিস্তৃত করেছে, বিদ্যমান চিন্তার জড়তা থেকে বের করেছিল। বহিরাগতদের আগমনের কারণেই ভারতীয়রা বুঝতে পেরেছিল পৃথিবী তাদের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসের চেয়ে বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। এভাবে আফগানি আক্রমণও ভারতকে প্রভাবিত করেছে এবং ভারতবাসীর জীবনযাত্রায় বহুমুখী উন্নয়নের সূচনা করেছে। এই উন্নয়নযাত্রা আরো গতিশীল ও গভীর হয় মোগলদের আগমনের পর। কেননা আফগানদের তুলনায় তারা শিক্ষা-সংস্কৃতিতে আরো এগিয়ে ছিল। তারা ভারতে উন্নয়ন ছড়িয়ে দেয় যা ছিল ইরানের (পারস্যের) বৈশিষ্ট্য।’ (দ্য ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া : ১/৫১১)

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা পাট্টভি সীতারামায়া ১৯৪৮ সালে জয়পুরে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল কংগ্রেসের ৫৫তম অভিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুসলিমরা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে, আমাদের প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করেছে, বিভক্ত ভারতকে একতাবদ্ধ করেছে। দেশের সাহিত্য ও সামাজিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।’ (প্রেসিডেন্টশিয়াল অ্যাড্রেস অব ড. পাট্টাভি)

ড. হান্টার—যাকে ভারতবর্ষের ইসলামী শাসনকাল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মনে করা হয় তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুসলিমরা দক্ষিণ ভারতে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে। তারা এই অঞ্চলকে জাগিয়ে তোলে, তাকে জীবন দান করে। কোনো পর্যকট এই অঞ্চল ভ্রমণে এলে খুব দ্রুত তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত স্থানীয় বড় পুকুরগুলো, যার মাধ্যমে চাষাবাদ করা হতো এবং জনমানবশূন্য বনের ভেতরে মুসলমানের তৈরি মসজিদ, দুর্গ, ভবন, কূপ-পানির হাউসগুলো।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top