ঘেরের পাড়ে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা

IMG-20210909-WA0005-1.jpg

শেখ শাহিনুর ইসলাম শাহিন, মোল্লাহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ঘেরের পাড়ে ‘আধনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ধান ও মাছের পাশাপাশি ঘেরে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন এখানকার কৃষকেরা। মৌসুমি ধান ও মাছ চাষ করে একসময় যাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটত, লাভজনক সমন্বিত সবজি চাষে এখন তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৮৮০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪০ হেক্টর ঘেরের পাড়ে জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। চলতি বছর সবজি উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ছিল ৮২০ হেক্টর জমিতে। এ বছর লক্ষ মাত্রার চেয়ে ৬০ হেক্টর জমিতে সবজি বেশী চাষ হয়েছে। এর মধ্যে করলা চাষ হয়েছে ৩০০ হেক্টর জমিতে, শসা চাষ হয়েছে ১৫০ হেক্টর জমিতে, লাউ চাষ হয়েছে ৮০ হেক্টর জমিতে এবং চাল কুমড়া চাষ হয়েছে ১০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলার চুনখোলা, শাসন, আংরা, মৌপুরা, বড় কাচনা, ছোট কাচনা, দারিয়ালা, নগরকান্দি, গাংনী, কুলিয়া, ঘোষগাতী, নাশুখালী, চাঁদেরহাট, জয়ডিহি, সরসপুর, কোদালিয়া,ভান্ডারখোলা, চর- আটজুড়ি গ্রামের ঘেরের পাড়ে ও পতিত জমিতে এখন ব্যাপকহারে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৎস্য ঘেরের পাড়ে শোভা পাচ্ছে করলা, শসা, লাউ, ভেন্ডি, , মিষ্টি কুমড়া, উচ্ছে, ঝিঙে, চাল কুমড়া, বরবটি শিম, পুঁইশাক, পেঁপে, শসা, খিরাইসহ নানাবিধ সবজি। ঘরের পাড়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বাঁশ ও নেট দিয়ে ঝুলন্ত মাচা তৈরি করা হয়। তারপর সবজির আবাদ করে বাড়ন্ত গাছ মাচার ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে জায়গা কম লাগে ও অল্প পরিচর্যায় ভালো ফলন পাওয়া যায়।

চুনখোলা ইউনিয়নের আংরা গ্রামের দিপঙ্কর বিশ্বাস বলেন, তার ৩ বিঘা ঘেরের পাড়ে মাচা পদ্ধতিতে সবজির চাষ করা হয়েছে। উৎপাদিত সবজি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এ সবজি রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়ে বিক্রি করছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এতে সংসার ভালভাবে চলেও কিছু টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে মাছের খাবার ও ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার জন্য ব্যয় করেন।

একই এলাকার হরিচাঁদ মজুমদার , খোকন শেখসহ সবজি চাষিদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, বর্তমানে দেশে ও বিদেশে সবজির ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় গত কয়েক বছরে মৎস্য ঘেরের পাড়ে সবজি চাষে ভাগ্যের পরিবর্তন এসেছে তাদের জীবনে। কৃষকেরা বলেন, মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে বদলে গেছে তাদের মতো বহু কৃষকের ভাগ্য।

দারিয়ালা গ্রামের পাইকারী সবজি ব্যবসায়ী এনায়েত শিকদার বলেন, আমি স্থানীয় সবজি চাষী ভাইদের কাজ থেকে পাইকারী দরে সবজি ক্রয় করে ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করি। এতে নিজেরও লাভ হচ্ছে এবং কৃষকদের উৎপাদিত সবজিও বিক্রি করে দিতে পারছি।

মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনিমেষ বালা বলেন, বেশিরভাগ ঘেরের পাড়ে সবজি চাষ হচ্ছে। ঘেরেরর পাড়ে উৎপাদিত করলা, শশা, লাউ, উচ্ছে, শসা চাল কুমড়া ও বরবটি বর্তমানে এসব ফসল তোলার ভরা মৌসুম চলছে। কৃষকেরা ভালো দামও পাচ্ছেন। আমরা কিছু প্রদর্শনী আকারে লাউ, করলা, মিষ্টি কুমড়ার সার বীজ ও প্রযুক্তির সহায়তা দিয়েছি। এছাড়া নিরাপদ সবজি উৎপাদনে পরামর্শ প্রদান ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top