মাকে মারধর : ছেলের হাতে হাতকড়া দিতেই কেঁদে উঠলেন সেই মা

resize-350x230x0x0-image-145528-1630951046-1.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : মায়ের মমতার কাছে হার মানলো বিচারের বাণী। যে কারণে ছেলের নির্যাতন সইতে না পেরে প্রশাসনের কাছে বিচার চাইতে এসেছিলেন যে মা। ছেলের হাতে হাতকড়া দিতেই কেঁদে উঠলেন সেই মা-ই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মিনতি করে নিজেই ছাড়িয়ে নিলেন ছেলেকে।

হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনা ঘটেছে সোমবার (০৬ সেপ্টেম্বর) মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিউজা-উল-জান্নাহের কার্যালয়ে। একই উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের মোমেনা বেগমের ক্ষেত্রে ঘটেছে এ ঘটনা।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ ছেলে আর তিন মেয়ের সংসার মোমেনা বেগমের। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে মারা গেছেন স্বামী শফিরদ্দিন খলিফা। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে নিজের ভরণপোষণ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মা মোমেনা বেগম। ছেলেরা তার খুব একটা দেখভাল করে না।

বরং জমি ভাগ না করে দেয়ায় পাঁচ ছেলেই তাকে নির্যাতন করতো। যা সইতে না পেরে সম্প্রতি মা মোমেনা বেগম আসেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। এমন খবর সন্তানেরা জানতে পেরে মা মোমেনা বেগমকে মেরে সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পাঁচ ছেলের একজন ইব্রাহিম। গতকাল রোববার কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার শ্রীপুর ইউএন ও’র কাছে পুনরায় অভিযোগ দেন মা মোমেনা বেগম।

এবার ইউএনও বিচারের জন্য লিখিত নোটিশ পাঠান পাঁচ ছেলের নামে। ইউএনও’র নির্দেশে পুলিশ ইব্রাহিম খলিফা, জাহিদ খলিফা, আয়েব আলী ও নুর ইসলামকে হাজির করে ইউএনও’র কার্যালয়ে। অপর ছেলে সুরুজ অনুপস্থিত ছিল।

ইউএনও অফিসে উপস্থিত তিন ছেলে জাহিদ খলিফা ও নুর ইসলাম তাদের মাকে মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, এখন থেকে আমরা সবাই মায়ের ভরণপোষণের জন্য প্রতিমাসে এক হাজার করে টাকা দেব। এ সময় তারা অবশ্য জমি-জমা সকলকে ভাগ করে দেওয়ার জন্য দাবি করেন।

আয়েব আলী তার অপরাধ স্বীকার করে মায়ের কাছে মাফ চেয়ে এরকম ভূল না করার বিষয়ে মুচলেকা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিস্তারিত শুনানি শেষে মাকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো ইব্রাহিম খলিফার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন ইউএনও। এসময় পুলিশ তাকে হাতকড়া পরান। এ দৃশ্য দেখেই কেঁদে উঠেন মা মোমেনা। কাকুতি মিনতি করে ছাড়িয়ে নেন ছেলে ইব্রাহিমকে।

মায়ের চিরন্তন এ মমতায় ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত অনেকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে চোখ মুছতে থাকেন। এক পর্যায়ে মুচলেকা নিয়ে অন্য সবার মত ছেড়ে দেয়া হয় ইব্রাহিমকে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিউজা-উল-জান্নাহ বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারের জন্য মোমেনা বেগমের পাঁচ ছেলেকে নোটিশ করা হয়েছিলো। হাজির হয়েছিল ৪ ছেলে। কিন্তু মায়ের মমতায় শিথিল করতে হয়েছে অনেক কিছু।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকদেব রায় বলেন, বৃদ্ধা মায়ের আকুতি মিনতির কারণে এবারের মতো মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ নিয়মিত খোঁজ খবর রাখবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top