ঢাকা বিভাগ আ. লীগের বৈঠক

নিজ এলাকায় উপেক্ষিত, ক্ষোভ ঝাড়লেন কেন্দ্রীয় নেতারা!

090741141633AL-LOGO.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের কাছে উপেক্ষিত। ওই কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসভবনের আশপাশে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান থাকলেও সেখানে তাঁদের দাওয়াত দেওয়া হয় না। স্থানীয় নেতাদের কাছে উপেক্ষার শিকার হয়ে দলীয় এক বৈঠকে ক্ষোভ ঝাড়লেন ওই কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল ঢাকা বিভাগ আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের এক বৈঠকে অন্তত তিনজন নেতা এমন ক্ষোভ জানান। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র এমনটি জানিয়েছে।

বৈঠকে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমসহ সম্পাদকমণ্ডলী ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বেশির ভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের মধ্যে অন্তত তিনজন নিজ এলাকার নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন। সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও সানজিদা খাতুন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন বৈঠকে জানান, তাঁদের বাসভবনের আশপাশে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি পালন হয়। এ কর্মসূচিতে তাঁদের দাওয়াত দেওয়া তো দূরের কথা, অবগতই করা হয় না। এটি সাংগঠনিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ।

কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার এমন ক্ষোভের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগের সংগঠন গোছানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটির সময়ে সব বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক অবস্থা সবচেয়ে বেহাল ছিল। এখানকার ১৭ সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে প্রায় সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে শিগগিরই এসব জেলা, মহানগর, উপজেলায় সম্মেলন শুরুর বিষয়ে একমত হন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এ লক্ষ্যে প্রতি মাসের প্রথম রবিবার নিয়মিত ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আগামী ১৬ অক্টোবরে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে চলতি সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে রাজধানী ঢাকায় সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অধীন থানা, ওয়ার্ড কমিটিগুলো দ্রুত করার তাগিদ দেওয়া হয়। থানা ও ওয়ার্ড সম্মেলন যত দ্রুত সম্ভব শুরু করার বিষয়ে একমত হন কেন্দ্রীয় নেতারা। সম্মেলন ও কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠন গুছিয়ে এনে নির্বাচনী কাজ এগিয়ে নিতে হবে বলে মত দেন বৈঠকে উপস্থিত নেতারা।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, ‘বিগত কেন্দ্রীয় কমিটির সময়ে ঢাকা বিভাগে বলতে গেলে সম্মেলনই হয়নি। এখন আমরা চেষ্টা করছি সংগঠনকে গতিশীল করতে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এখানকার থানা ও ইউনিট কমিটিগুলো বেহাল। জাতীয় নির্বাচনের আগেই আমরা মহানগর আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।’

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top