প্রভুর দাসত্বে জীবনের ঐশ্বর্য

110000_bangladesh_pratidin_Islam-3.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : জারিয়াতের ৫৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন। অর্থাৎ আমি জিন এবং মানুষকে এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা শুধু আমারই দাসত্ব করবে।’ এ থেকে প্রতীয়মাণ হয় যে, আমরা মহান মাবুদের দাস। দাস ওই সত্তাকে বলা হয়, যাকে নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময় কেনা হয়। বিক্রির পর দাসের আর কোনো ইচ্ছা থাকে না। মালিক যা বলবে তাই করবে। মালিকের সন্তুষ্টির জন্য নিজের স্বর্বস্ব উজাড় করে দেয় দাস। এখন প্রশ্ন হতে পারে, ওপরের আয়াতে আল্লাহ আমাদের দাস বলেছেন, তার মানে কি আল্লাহ আমাদের কিনে নিয়েছেন? উত্তর, অবশ্যই কিনে নিয়েছেন, সুরা তাওবার ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘ইন্নাল্লাহাশতারা মিনাল মুমিনিনা বিআমওয়ালিহিম ওয়া আনফুসিহিম আন্না লাহুমুল জান্নাহ। অর্থাৎ যারা নিজেদের বিশ্বাসী দাবি করে, তাদের সম্পদ এবং জীবন আল্লাহ কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়।’ এর মানে হলো আমরা জান্নাতের বিনিময় আল্লাহর কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আমরা আল্লাহর দাস বা গোলাম। এখন আমাদের নিজস্ব ইচ্ছা বলতে কিছু নেই। সব প্রভুর খুশি মতো করতে হবে। এভাবে যখন নিজের ইচ্ছাকে প্রভুর খুশির কাছে সমর্পণ করব, তখন আমরা হয়ে যাব মুসলিম তথা আত্মসমর্পণকারী।

দাসের মতোই আরেকটি শ্রেণি আছে। তারা হলো কর্মচারী। মালিকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময় নির্দিষ্ট সময় কাজ করে। মালিকের সঙ্গে তাদের এর চেয়ে বেশি কোনো সম্পর্ক নেই। একটি উদাহরণের মাধ্যমে দাস এবং কর্মচারীর পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করব। ‘বেলাল আমার দাস। ১০ কোটি টাকার বিনিময় তাকে কিনে নিয়েছি। এখন আমার সব কথা তাকে বিনা বাক্যে মানতে হবে। আর সে যদি কখনো অসুস্থ হয় বা বিপদে পড়ে তাহলে তার দেখাশোনা করা আমার জন্য আবশ্যক নয়। তবে আমার দয়া এবং ভালোবাসা তাকে অসুস্থ অবস্থায় একলা ফেলা রাখাকে সঠিক মনে করবে না। এই হলো দাসের অবস্থা। অপরদিকে হেলাল আমার চাকর বা কর্মচারী। মাসিক বেতন এক লাখ টাকা। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আমার ফ্যাক্টরিগুলো দেখবে। কখনো যদি অতিরিক্ত সময় কাজ করানো লাগে কিংবা ফ্যাক্টরি ছাড়া অন্য কোনো কাজের প্রয়োজন হয় তবে চুক্তি অনুযায়ী হেলাল তা করতে বাধ্য নয়। নিঃসংকোচে সে আমাকে বলবে, আমি আপনার গোলাম নই, কর্মচারী। চুক্তির বাইরে কোনো কাজ এবং অতিরিক্ত সময় দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। একইভাবে আমিও তার প্রয়োজনের সময় চুক্তির বেশি এক টাকাও দেব না। এই হলো চাকরের অবস্থা। চাকর এবং দাসের পার্থক্য বলার পর এ কথা বোঝার বাকি নেই যে, আল্লাহ কেন আমাদের দাস বলেছেন। এও বোঝার বাকি নেই দাস হিসেবে আমাদের কীভাবে প্রভুর নির্দেশ মেনে চলা উচিত। মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এবং আমাদের চিন্তার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, আল্লাহর সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে দাসত্বের এবং এর দামও নির্ধারণ করা হয়েছে; কিন্তু আমরা আল্লাহর সঙ্গে আচরণ করছি কর্মচারীর। যা হওয়া উচিত নয়।

লেখক : খতিব, আমলীগোলা জামে মসজিদ, লালবাগ, ঢাকা।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top