ভারতে আটক বনানী থানার সেই পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

105547sohel_rana_kk.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা ভারতে পালিয়ে গেছেন এমন পুলিশ রিপোর্ট পাবার পর অবশেষে বরখাস্ত করা হয়েছে তাকে। ইতোমধ্যে তার স্থলে নতুন কর্মকর্তাকেও বদলি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সোমবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সোহেল রানাকে বরখাস্তের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গতকালই তার স্থলে নতুন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন, গুলশান পুলিশের পক্ষ থেকে এমন রিপোর্ট আসার পর বনানীর পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারত-নেপাল সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক আটক হন বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা। এমন অবস্থার মধ্যে তার স্থলে নতুন কর্মকর্তা হিসেবে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর গাজীকে বদলী করা হয়েছে।

রবিবার ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ২১ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে সোহেল রানাকে সরিয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর গাজীকে একই পদে বনানী থানায় বদলী করা হয়। এ আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে রবিবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু ভারতে মামলা হয়েছে এ কারণে তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে কি-না সেটি নিশ্চিত না। তবে ফিরিয়ে আনার রাস্তা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিএসএফকে চিঠি দিয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এটি অনেক সময় করা হয়। আমরা চেষ্টা করছি ফিরিয়ে আনার জন্য। যদি এ মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয় তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাকে ফেরত আনার চেষ্টা করবে।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, তার (পরিদর্শক সোহেল রানা) ব্যাপারে গুলশান বিভাগ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে রিপোর্ট পেলে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত থেকে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে আটক করা হয়। সোহেল রানা বিরুদ্ধে ই-অরেঞ্জ নামে অনলাইন মার্কেট প্লেসের সঙ্গে যোজসাজশ থাকার অভিযোগ উঠেছে, যে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পণ্য দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম নেওয়া ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমান উল্লাহ, নাজনিন নাহার বিথি, কাওসার, কামরুল হাসান, আব্দুল কাদের, নূরজাহান ইসলাম সোনিয়া ও রুবেল খান।

জানা গেছে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিনের আপন ভাই ভারতে আটক হওয়া ইন্সপেক্টর শেখ সোহেল রানা।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top