আফগানিস্তানে নতুন সরকার আগামী সপ্তাহে

image-435284-1624522183-1.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট:আফগানিস্তানে নতুন সরকারের নাম ঘোষণা এক সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে তালেবান। গতকাল সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নতুন সরকার ঘোষণার দিনক্ষণ পিছিয়ে দিল তারা।

এদিকে পানশির উপত্যকায় ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (এনআরএফ) ও তালেবানের মধ্যকার লড়াই নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তালেবান দাবি করেছে যে পানশির তাদের দখলে চলে এসেছে। অন্যদিকে এনআরএফ বলছে, পানশির উপত্যকা এখনো পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখল করে নেয় তালেবান যোদ্ধারা। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তান ছাড়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী। মূলত এর পর থেকেই আফগানিস্তানের সম্ভাব্য নতুন সরকার নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। গত বৃহস্পতিবার একাধিক তালেবান নেতা জানিয়েছিলেন, শুক্রবার আসর নামাজের পরেই নতুন সরকার ঘোষণা করা হবে। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে তালেবানের এক মুখপাত্র জানান, শনিবার (গতকাল) সকালের আগে নতুন সরকার ঘোষণা করা সম্ভব নয়। এরপর গতকাল বিকেলে জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভার নাম আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে।’ তবে দিনক্ষণ পেছানোর কোনো কারণ তিনি উল্লেখ করেননি।

নতুন সরকার গঠন নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করতে তালেবান যে কমিটি করেছে, খলিল হাক্কানি সেই কমিটির সদস্য। সরকার গঠনের দিনক্ষণ পেছানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তালেবান এমন একটি সরকার গঠন করতে চায়, যাতে করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি মেলে। তালেবান চাইলে একাই সরকার গঠন করতে পারে। কিন্তু সেই সরকার বিশ্বের স্বীকৃতি পাবে না। এ জন্য তালেবান চায় নতুন সরকারে সব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকুক। মূলত এ কারণেই সরকারের নাম ঘোষণা পেছানো হয়েছে।’

পানশির উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তালেবান দাবি করেছে যে আফগানিস্তানের সবচেয়ে ছোট ওই প্রদেশটি তাদের দখলে চলে এসেছে। কিন্তু এনআরএফ যোদ্ধারা তালেবানের হাতে পানশির পতনের খবর উড়িয়ে দিয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সেখানে কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছে। এনআরএফকে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ। তালেবান দাবি করেছে যে সালেহ এরই মধ্যে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু বিবিসিকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় সালেহ দাবি করেছেন, ‘এটা সত্যি যে আমরা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছি। আমরা তালেবানের হামলার মধ্যে আছি। কিন্তু আমরা আত্মসমর্পণ করব না।’

পানশির উপত্যকা নিজেদের দখলে এসেছে—এমন খবর শোনার পর কাবুলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বিজয় উদযাপন করে তালেবান যোদ্ধারা। কিন্তু এই ‘উল্লাসের গুলিতে’ ১৭ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

পানশির অবস্থান কাবুল থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তরে। এই উপত্যকাটি এখনো তালেবান নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। মূলত তালেবানবিরোধী যোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্যরা মিলে গঠিত হয়েছে এনআরএফ। তালেবানের প্রথম শাসনামলও (১৯৯৬-২০০১) মেনে নেয়নি এনআরএফ।

‘উল্লাসে গুলি ছোড়ার’ ঘটনায় জড়িতদের তিরস্কার করেছেন তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, ‘আকাশে গুলি ছোড়া বাদ দিয়ে আল্লাহকে ধন্যবাদ দিন। গুলিতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি হতে পারে।’

এদিকে আফগানিস্তানে অবস্থিত কাতার দূতাবাস জানিয়েছে, কাবুল বিমানবন্দরের আংশিক কার্যক্রম ফের চালু হয়েছে। আপাতত বিদেশ থেকে বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে আসা ফ্লাইটগুলো চলাচল করছে। শিগগিরই বেসামরিক ফ্লাইটও চালু হবে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top