বাওড় পাড়ের জেলেদের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে

336089_170-1.jpg

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :  ’জাল যার জল তার’ এই সত্য কথাটি আজ যেন হারিয়ে গেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে চৌগাছার একটি বাওড়ের ম্যানেজার বাওড় পাড়ের শতশত জেলে পল্লীর মানুষকে পথে বসার উপক্রম করেছেন। অথচ ম্যানেজার বাওড়ের গার্ডদের সহযোগীতায় হাজার হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলেই নেমে আসছে মামলা হামলার মত নিষ্ঠুরতা। সম্প্রতি বাওড় পাড়ের অসংখ্য জেলেরা এমনই অভিযোগের কথা শুনান স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীদের।

যশোরের চৌগাছায় যতগুলো বাওড় আছে তার মধ্যে অন্যতম সরকারি বাওড় হচ্ছে মর্জাদ। পাশ্ববর্তী ঝিনাইদাহ জেলার কালিগঞ্জ ও চৌগাছা উপজেলার মধ্যে এই বাওড়টির অবস্থান। বাওড়কে কেন্দ্র করে এর দুই পাশে অসংখ্য জেলে পল্লী গড়ে উঠেছে। যুগযুগ ধরে তারা বাওড়ের রানী মাছ (ছোট) শিকার করে তা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই বাওড়ে যেন অঘোষিত ভাবে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন বর্তমান বাওড় ম্যানেজার। তিনি একজন জেলেকেও বাওড়ে নামতে দিচ্ছেন না, এমনকি জেলে পল্লীর গৃহবধুরা বাওড়ের পানিতে গোসলে নামলে তার পাশে বাওড়ের পুরুষ গার্ডদের টহলে রাখছেন। শুধু তাই না, জেলেরা যদি বস্তা ও কাচি নিয়ে বাওড়ের ধারে গরুর জন্য ঘাষ কাটতে যাচ্ছেন সেখানেও হেনাস্থা হতে হচ্ছে। দিনে পর দিন মাছ শিকার বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে রীতিমত হিমশীম খাচ্ছেন। জেলেরা ডোঙ্গায় করে বাওড়ের এপার হতে ওপারে যেয়ে পরের ক্ষেতে কাজ করার সময় গার্ডেরা ওই ডোঙ্গা নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছে না। এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি মর্জাদ বাওড় পারের অসংখ্য জেলেরা কথা বলেন স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে।

একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর হলো মর্জাদ বাওড়ে নতুন বাওড় ব্যবস্থাপক হিসেবে শেখ মাহাবুবুর রহমান যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর পরই বাওড় পাড়ের সার্বিক বিষয়ে ব্যাপক খোঁজ খবর নিতে থাকেন। এরপর বাওড়ে কর্মরত অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাধর গার্ডদের নিয়ে বেশ কয়েকবার গোপন বৈঠক করেন। এর পরপরই বাওড়ে জেলেদের ছোট মাছ ধরার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। অভিযোগ আছে বাওড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন গার্ড দায়িত্ব পালন করলেও ম্যানেজার প্রভাবশালী গার্ড হিসেবে পরিচিত আব্দুল মুজিদ, রাসেল হোসেন, রমিচউদ্দিন, বাবলুর রহমান, সদু মিয়াসহ ৮/১০ গার্ডকে তার অনুকুলে নিয়ে নেয়। এই সকল গার্ড সরকারী দলের লোকজন হওয়ায় তাদের নিজস্ব কিছু সাঙ্গপাঙ্গ আছে যাদেরকে সাথে নিয়ে ম্যানেজার বাওড়ে রীতিমত তয়রুপ চালাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, বাওড়ের ছোট মাছ হচ্ছে জেলেদের হক, তারা এই মাছ শিকার করে পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত তুলে দেন, সন্তানদের লেখাপড়া করান কিন্তু সবই যেন আস্তে আস্তে বন্ধ হতে বসেছে।

কথায় আছে রক্ষক যদি ভক্ষোক হয়ে যায়, সেখানে কিছুই থাকেনা, সেই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে মর্জাদ বাওড়ে। ম্যানেজার ক্ষমতাধর গার্ড ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে নিয়মিত বাওড় থেকে ছোট মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করেন। বিক্রিকৃত টাকার অর্ধেক যায় ম্যানেজারের পকেটে বাকি টাকা ওই গার্ডরা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। শুধু ছোট মাছ না, সুযোগ বুঝে বাওড় রাতের আঁধারে এমনকি মণ মণ বড় মাছ শিকার করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ করেন জেলেরা। এ সব নিয়ে সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক জেলেদের মাছ শিকার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জেলেরা।

এ বিষয়ে মর্জাদ বাওড় ব্যবস্থাপক শেখ মাহাবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকল অভিযোগই ভিত্তিহীন। তবে ২০১৯ সালের নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে শুধু মাত্র বাওড়ের রেজিষ্ট্রিকৃত ১’শ ৫০ জন জেলেরা ছোট মাছ শিকার করতে পারবে। তাছাড়া অন্য জেলেরা ছোট মাছ শিকার করতে পারবে না।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top