খুলনায় ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে দখল-লুটপাটের অভিযোগ

212397_image_url_Press-C-1.jpg

পাইকগাছা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মো. মাকছুদুর রহমান।

পাইকগাছা প্রতিনিধি:  খুলনা পাইকগাছায় দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা চলমান থাকাবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমিরন সাধুর বিরুদ্ধে জমিসহ মৎস ঘের লুটপাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (০৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাইকগাছা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন এ অভিযোগ করেন উপজেলার হিতামপুর গ্রামের আ. হামিদ মোড়লের ছেলে মো. মাকছুদুর রহমান।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘মেকেলপুরাইকাটী গ্রামের মৃত অধীর সাধুর ছেলে সমিরন কুমার সাধু, একজন দুর্দান্ত, প্রভাবশালী, জনবলে, অর্থবল ও পেশীবলে বলিয়ান এবং পর সম্পদলোভী ব্যক্তি। তিনি সর্বদা নিজেকে ক্ষমতাধর নেতা ও ধর্মীয় নেতা হিসেবে জাহির করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে চলেছে। উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি হওয়ায় ধরাকে স্বরাজ্ঞান করেন যখন তখন। ধর্মীয় ও ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কপোতক্ষ নদ চর দখল করে অবৈধভাবে ইট ভাঁটা নির্মাণ ও প্রস্তুত করেসহ বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন।  কয়েক বছর পূর্বে তিনি সামান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। রাতারাতি আজ তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। যে কারণে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হয়ে নিজেকে খুব ক্ষমতাধর বলে জাহির করেন। তার অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে চাইলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।’

তিনি বলেম, ‘ আমি উপজেলার হিতামপুর মৌজার এস, এ ৩৭৮ খতিয়ানের ১৭৭ দাগ সহ অন্য দাগে মোট ১২ বিঘা জমি ক্রয় ও ডিডমূলে প্রায় ৬ বছর যাবত শান্তিপুর্ণভাবে মৎস্য লীজ ঘের করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু গত বেশ কিছুদিন পূর্বে সমিরন সাধু অবৈধ ইট ভাটার পাশে আমার মৎস্য ঘের হওয়ায় আমার মৎস্য ঘেরের উপর তার কু-নজর পড়ে। গত আগস্ট মাসে আমাদের ঘের দখল করার মানসে আমার পিতা সহ আমাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিতে থাকে। সে কারণে আমি গত ১৬ আগষ্ট/২১ পাইকগাছা থানায় একটি জিডি করি। যার নং-৯৪০। জিডি করার কারণে সমিরন সাধু আমার উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন রকম হুমকি দিতে থাকে।’

‘আমি গত ২২আগষ্ট ২০২১তারিখে পাইকগাছা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞা বাবদ দেওয়ানী মামলা করি। যার ১নং বিবাদী সমিরন সাধু। মামলা নং- ২৫৮/২১। দেওয়ানী মামলার শোকজ নোটিশ প্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে আরো ক্ষিপ্ত হন। উপায়ন্ত না পেয়ে আমার পিতা জান মালের নিরাপত্তা চেয়ে পাইকগাছা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১০৭ ও ১১৭ ধারায় মামলা করেন। আগামী ইং- ১২/১০/২১ তারিখে সমিরন সাধুকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার সমন দেন  আদালত।’ তিনি বলেন।

‘আমাদের আশঙ্কা সত্যি করে গত ০৪/০৯/২১ তারিখ শনিবার সকালে সমিরন সাধুর নেতৃত্বে তার ভাই বিষ্ণু সাধু, কৃষ্ণ সাধু, বিশ্বজিত সাধু ও মুকুল মোড়লসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জন ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার মৎস্য ঘেরে অনধিকার প্রবেশ পূর্বক দখল করার জন্য হাজির হয়। সমিরন সাধুর নির্দেশে গুন্ডা বাহিনী আমার মৎস্য লীজ ঘেরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরতে থাকে। এ সময় আমার ঘেরের নেট পাটা কেটে ক্ষতি সাধন করে এতে আমার প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়। প্রায় ৪ বিঘা জমির মধ্যে তান্ডব চালিয়ে বেড়া, নেট ও মাটির বাঁধ দিতে থাকে।’ তিনি বলেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top