মোরেলগঞ্জে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন ইউপি প্রার্থীরা

download-6-1.jpg

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা অনুযায়ী বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে স্থগিত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ তথ্য জানান।

মোরেলগঞ্জে ১৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১ টি ইউনিয়নের একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় ওই ইউনিয়নে পুনঃতফসিলে পরবর্তীতে নির্বাচন হবে বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন অফিস আরো জানায় একটি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে সদস্য পদগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপির ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ১ এপ্রিল নির্বাচন স্থগিত হয় । এরপর ২১ জুন ভোটগ্রহণের জন্যে দিন ঠিক করা হয়।

জুনের প্রথম দিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে দেশের দক্ষিণাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ১৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পুণরায় স্থগিত করা হয়। তবে গত ২১ জুন বাকি ২০৪ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, মোরেলগঞ্জের ১৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫ টিতে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার ১৬ নং খাউলিয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাস্টার আবুল খায়ের নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন মারা গেলে ওই ইউনিয়নের নির্বাচন পরবর্তীতে পুণ তফশীলে অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন।

এদিকে, ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষনার পর এ এলাকায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। মাঠে নেমে পড়েছেন ইউপি প্রার্থীরা। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে তাদের অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে কোন কোন ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর অবস্থান থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন।

নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল আরো জানান, সব প্রার্থীকে সমানভাবে দেখা হবে। নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে। ১৫ টি ইউনিয়নের ১৩৮ টি কেন্দ্রের সবগুলোকেই ঝূঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে অধিক ঝূঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ এলাকায় ৮ জন ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ টিম সহ প্রচুর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবেন। ৮ জন রিটানিং অফিসার থাকবেন। কোন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে, আইনের ব্যাত্যয় ঘটালে বা চেষ্টা করলে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। কোন রকম উস্কানি ও হয়রানিমূলক কাজ করার চেষ্টা করলে সেটির বিরুদ্ধেও প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top