বিশ্ব অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে

1662278425.PM_.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট :বিশ্ব অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আগে থেকেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুরে পেকুটিয়া পয়েন্টে কচা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরপর তিনি সেতুটির দুই প্রান্তে সমবেত জনতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এখানে উপস্থিত দুই শিক্ষার্থী এবং দুজন খুদে ব্যবসায়ী সেতুর উদ্বোধনের ফলে তাদের সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন : ১৬ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে মুশফিকের যত অর্জন 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, যেটা আমি আগেই আহ্বান করেছি- এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে । কারণ আপনারা জানেন যে একদিকে করোনার এই মহামারির পরে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা অনেক নাজুক হয়ে পড়েছে। অনেক উন্নত দেশে মূল্যস্ফিতি এত বেশি এবং তাদের সেখানে পণ্য পাওয়াই কষ্টকর। এরকম অবস্থা সে আমেরিকা হোক, ইংল্যান্ডই হোক, ইউরোপই হোক- বিদ্যুৎ তারা সেখানে রেশন করে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। পানি ব্যবহার করা সীমিত করে দিয়েছে ৷ এমনকি গোসলের পানিও বেশি ব্যবহার যাতে না হয় সে নির্দেশও দিচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদেরও আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। পানি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটি কথা হচ্ছে যে একদিকে করোনার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর, তার উপর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। ইউক্রেন- রাশিয়া যুদ্ধ বেঁধেছে, আমেরিকা রাশিয়ার উপর স্যাংশন দিয়েছে। ফলে খাদ্য কেনা, সার প্রাপ্তি সবকিছুতেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যে বিদেশ থেকে জাহাজে করে পণ্য আনব সে জাহাজের ভাড়াও অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। কাজেই প্রত্যেকটা জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই অবস্থায় আমাদেরকে আমাদের নিজেরা ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- স্বাধীনতার পর অনেক বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিল একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ কিভাবে আপনি গড়ে তুলবেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন আমার মাটি আছে, মানুষ আছে। এই মাটি ও মানুষ দিয়ে আমরা বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। এই মাটি আর মানুষ দিয়েই এদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসবো। কাজেই আমিও এটা বিশ্বাস করি‌, আপনাদের উৎপাদনমুখী হতে হবে। ১ ইঞ্চি জমিও যেন পড়ে না থাকে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম শতভাগ বিদ্যুৎ দেব। শতভাগ বিদ্যুৎ আমরা দিয়েছিলাম কিন্তু এই যুদ্ধের কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে আমি অনুরোধ করব বিদ্যুৎ ব্যবহারে আপনারা খুব মৃতব্যয়ী হবেন, সাশ্রয়ী হবেন। এতে বিল কম উঠবে, আপনিও সাশ্রয় করতে পারবেন আর দেশের জন্য ভালো হবে। আমি চাই বাইরে যুদ্ধ বাঁধুক আর যাই বাঁধুক- বাংলাদেশের অর্থনীতির সচল রাখার জন্য আমাদের এই উর্বর মাটি ব্যবহার করেই নিজেদের খাদ্য আমরা নিজেরা উৎপাদন করব। কারও মুখাপেক্ষী হবো না, ভিক্ষা চেয়ে চলবো না। বিশ্বে মাথা উঁচু করে আমরা চলবো। এভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই আপনাদেরকে চলতে হবে, সেটাই আমি আপনাদের আহ্বান জানাই।

আরও পড়ুন : রণবীরের প্রশংসায় জুনিয়র এনটিআর

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জানি যে একটা দেশের উন্নয়ন করতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এগুলো অপরিহার্য। আমরা সেদিকে লক্ষ্য রেখে অনেক কাজ শুরু করেছি। দক্ষিণাঞ্চল সবসময় অবহেলিত, সবচেয়ে খরস্রোতা নদীগুলি এই দক্ষিণাঞ্চলে। এখান থেকে যাতায়াত ব্যবস্থা এত কঠিন আমরা ঢাকা থেকে যদি রওনা হতাম ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগতো টুঙ্গিপাড়া পৌঁছাতে। ‘৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দক্ষিণ অঞ্চলের অনেক ব্রিজ আমরা করে দিয়েছি। শুধু এই দক্ষিণাঞ্চল না উত্তরাঞ্চলে ও আমরা অনেক ব্রিজ করে দিয়েছি। ২০০১ এর ১ অক্টোবরের নির্বাচনে আমাদেরকে হারিয়ে দেওয়া হলো। এই নির্বাচনে পর পিরোজপুরবাসী থেকে শুরু করে বরগুনা, ভোলা, বরিশাল- এই সমস্ত অঞ্চলের মানুষের বিভীষিকাময় স্মৃতির কথা কেউ ভুলে যাননি। বিএনপি-জামায়াতের ওই তাণ্ডব, মানুষের ওপর অত্যাচার, খুন-খারাবি, নারী ধর্ষণ লুটপাট অগ্নি সংযোগ। যাহোক ২০০৮ এর নির্বাচনে আমরা আবার সরকারে আসি। সরকারে আসার পর আমাদের পরিকল্পনা মতো আবার আমরা কাজ শুরু করি। আজকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের বিশাল উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের সব অঞ্চলের যোগাযোগ শুধু না দক্ষিণ অঞ্চল যেটা সবসময় অবহেলিত ছিল সেই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমরা ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিই। কারণ আর্থসামাজিক উন্নয়ন করতে হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করতে হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে সে কথা মাথায় রেখেই আমরা সেতু নির্মাণ, রাস্তা নির্মাণ এবং রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন অতি সহজেই হয় সে সে পদক্ষেপ নিয়েছি।

আজ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু উদ্বোধন করছি। চীন আমাদের বন্ধুপ্রতিন দেশ তাদের সহায়তা পেয়েছি। সেজন্য তাদেরকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt
scroll to top