খুলনার সোলাদানা ইউনিয়নে সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

WhatsApp-Image-2021-09-04-at-7.06.59-PM-1-1.jpg

সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সংঘর্ষ। ফাইল ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকজনের হামলার শিকার হয়ে এলাকাছাড়া হয়েছেন ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এনামুল হক। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলেও গনসংযোগ করতে পারছেন না। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান গাজী ও তার লোকজনের অব্যাহত হুমকিতে বাধ্য হয়ে গত চার মাস ধরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ২৭ মার্চ আনারস প্রতীকের পোস্টার টানাতে গিয়ে নৌকা প্রতীকের কর্মীদের হামলার শিকার হন এনামুলের কর্মীরা। এসময় আনারস প্রতীকের পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গেলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের উপস্থিতিতে এনামুল হকের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়। পরের দিন ২৮ মার্চ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান গাজীর ছোট ভাই রবিউল ইসলাম গাজী বাদী হয়ে মামলা করেন মারাত্মক আহত চেয়ারম্যান এনামুলসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে। এলাকার একাধিক সুত্রের দাবি মান্নান গাজীর সর্মথকরা তেমন আহত না হলেও প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী প্রার্থী এনামুলকে ঘায়েল করার জন্য এধরনের মামলা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এনামুল হক কিছুটা সুস্থ হয়ে আরেকটি মামলা করেন।

দুটো মামলাই বর্তমানে থানা পুলিশের তদন্তে রয়েছেন। রবিউল গাজীর দায়েরকৃত ৩১ নম্বর মামলার ৬২ নং আসামী আমেরিকা প্রবাসি বিজন মন্ডলসহ দুইজন বাদে ৬১ জনই আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। অথচ চেয়ারম্যান এনামুলের দায়েরকৃত মামলা নং ৩৩ এর ১২৩ জন আসামীর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন জামিন নিলেও মুল আসামীরা কেউই জামিন নেয়নি। এমনকি মামলার আসামী নং ৭ ( নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ভাইপো) মশিউর রহমান তপু গাঁজা গাছসহ গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে থাকলেও তাকে গ্রেফতার ( শ্যোন এরেস্ট) দেখানো হয়নি। মামলার মুল আসামী মান্নান গাজীসহ অন্যন্যরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন সভা সমাবেশেও তাদের দেখা যাচ্ছে। এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনামুলের একাধিক সর্মথকরা জানান, মান্নান গাজি ও তার পোষ্যরা বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছেন। ভোটের আগে এলাকা ছাড়ার জন্য হুলিয়া জারি করেছেন। জানমালের ভয়ে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শি বেতবুনিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও আতিকুর রহমান রনি, গাউস সরদার জানান, এনামুল হকের জনপ্রিয়তায় ঈর্শান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা তাদের প্রচারণায় অব্যাহত বাঁধা সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে এনামুলের কর্মীদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। খবর শুনে সেখানে চেয়ারম্যান এনামুল হক আসলে তাকেও মারপিট করে। তিনি দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলে ওই বাড়িতেও হামলা চালিয়ে কয়েকটি ঘর ভাঙচুর করে মান্নান গাজীসহ তার সমর্থকরা। এসময় বাড়ির নারীরাও হামলার শিকার হয়।

বেতবুনিয়া গ্রামের একজন মুদি দোকানদার বলেন, টানা দুই বার এনামুল হকের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মান্নান গাজী। এবারও প্রার্থী হয়েছেন। তবে এবার তার মনোভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি ভোটের আগেই এনামুল হককে এলাকা ছাড়া করার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ি হয়তো এনামুল চেয়ারম্যান মামলা হামলার শিকার হয়ে এলাকা ছেড়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারনে নির্বাচন স্থগিত ছিলো। আবারো নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশন। এলাকার সাধারন মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চাকুরি প্রার্থীরা নাগরিক সনদের জন্য ভোগান্তিতে পড়ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে হুমকি দিচ্ছে এলাকায় ফিরলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমাকে জীবনে শেষ করে দিবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এনামুল জানান, সাধারন মানুষের ভালোবাসা নিয়ে তাদের সেবা করছি। কোন ধরনের হুমকি ধামকি আমাকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দুরে সরাতে পারবে না। তিনি ইউনিয়নবাসির সেবা দিতে প্রশাসনের সহযোগীতা নিয়ে এলাকায় ফিরতে চান।

জানতে চাইলে মুঠোফোনে আব্দুল মান্নান গাজী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এবারের নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন এনামুল হক। সে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাজানো নাটক করে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। এনামুল চেয়ারম্যানকে হত্যার উদ্দ্যেশে হামলা চালিয়েছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

এব্যাপারে পাইকগাছা থানার তদন্ত পরিদর্শক স্বপন কুমার রায় জানান, দুইটি মামলা তদন্তে রয়েছে। ২৮ মার্চের পরে সোলাদানায় আর কোন সংঘাত ঘটেনি। ওই এলাকায় যেন কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না গতে সেদিকে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারী রয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, সোলাদানার দুইটি মামলা দুইজন চেয়ারম্যান প্রার্থী পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশ নিরপক্ষ তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিবে। বর্তমানে ওই এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top