চৌগাছায় সবজি বাজার অস্থির : দাম বেড়েছে চিনি-ডিম-ডালের 

Chowgacha-Photo-03-09-2021-1-1.jpg

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছার সবজি বাজার দিন দিন অস্থির হয়ে উঠেছে। শীত মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতের সবজি কিন্তু দাম ক্রেতা সাধারনের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। দাম বেড়েছে তেল, ডাল, চিনি, ডিম, আটার। সব মিলিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন নিন্মআয়ের মানুষেরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার মনিটরিং করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

শুক্রবার ছিল চৌগাছার সাপ্তাহিক হাটের দিন। কাকডাকা ভোর হতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের চাষিরা উৎপাদিত সবজি নিয়ে হাজির হতে থাকেন পাইলট হাইস্কুলের বিশাল সবজি বাজারে। চৌগাছা ছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজেলার চাষিরাও এখানে আসেন সবজি বিক্রি করতে। সারিসারি ট্রাক দাড়িয়ে আছে, ব্যাপারীরা সবজি কিনে ট্রাক লোড দিয়ে নিয়ে যাবেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে। সবজি উৎপাদনের মুল কারিগর কৃষকরা কাংখিত মূল্য না পেলেও বাজারের প্রতিটি খুচরা দোকানে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন তারা যেমন দামে সবজি কিনছেন সেই অনুযায়ী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। অস্থির বাজারে নিন্মআয়ের মানুষেরা এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিন চৌগাছার প্রধান সবজি বাজারে যেয়ে দেখা গেছে, কমতি নেই কোন সবজির অথচ প্রতিটি সবজির দামই চড়া। এদিন বাজারে ১ কেজি শীতের সবজি কুশি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। অনুরুপ ভাবে বেগুন ৬০ টাকা, শশা ৪০, আমড়া ৩০, মুলা ৪০, সারোকচু ৪০, উচ্ছে ৩০ থেকে ৮০, পটল ৩৫, মিঠকুমড়া ৪০, টমেটো ৬০, কাঁচাকলা ৩৫, পেঁপে ২০, কাঁচামরিচ ১০০, সিম ১৪০, পেঁয়াজ ৪০, রশুন ৫০, ওল ৬০, পুল্লা ২০, বাঁধাকপি ৫০, কাকরোল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫, লাল শাক ১০ টাকা আটি, পুইশাক ১৫ আর ডাটা ২০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন, রাজু আহমেদ, মোঃ মধু জানান, পাইকারী বাজার হতে বেশি দামে সবজি কিনতে হয়েছে, যার ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দরে। যখন যেমন দামে তারা সবজি ক্রয় করেন তখন তেমন দামেই বিক্রি করেন। কৃষক টিপু সুলতান, সামাউল ইসলাম বলেন, চাষিরা কখনও তার উৎপাদিত পন্যের নায্য মূল্য পাইনা এখনও সেই একই অবস্থা। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর কিছুটা ভাল দামে ফসল বিক্রি করতে পেরেছেন।

বাজার করতে আসা চৌগাছার এক কিন্ডর স্কুলের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রায় দুই বছর স্কুল বন্ধ নেই কোন বেতন ভাতা, অন্য কোন আয় রোজগার নেই। চরম খারাপ অবস্থার মধ্যে পার হচ্ছে দিন। আজ সবজি বাজারে এসে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পকেটে যে টাকা আছে তাতে কি কিনব আর কি কিনব না ভেবে পাচ্ছিনা। রাজমিস্ত্রির সহকারী কিতাব আলী, রোকন উদ্দিন বলেন, দিন শেষে ৪০০ টাকা আয় করেছি। এখন সবজি বাজারেই পকেট প্রায় খালি, অন্যান্য সদয় কি ভাবে করবো জানিনা। ভ্যান চালক জাকির হোসেন বলেন, পরিবারে মোট সদস্য ৬ জন। যে রোজগার করেছি তাতে সবজি কিনলে অন্য কিছু কেনা সম্ভব হচ্ছেনা।

এদিকে দাম বেড়েছে আটা, তেল, চিনি ডিম ডালের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে কিছু কিছু পন্যের। কিসের কারনে বৃদ্ধি পাচ্ছে দাম তা ব্যবসায়ীরা জানেনা। বাজার দরের কাছে চরম অসহায় হয়ে পড়া নিন্মআয়ের মানুষসহ উপজেলার সচেতন মহল বাজার মনিটরিং করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top