খুলনায় খানাখন্দে ভরা রাস্তায় জনভোগান্তি চরমে

guyu-2.jpg

সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এম এ বারী লিংক রোডটিতে চলাচলের পরিবেশ নেই।

এহতেশামুল হক শাওন : প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশসড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো খানাখন্দে পরিণত হয়েছ। সড়কগুলোতে যাত্রীবাহী যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জীবন ও সম্পদ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এম এ বারী লিংক রোডটিতে চলাচলের পরিবেশ নেই। বর্ষার কাদাপানি জমে গর্ত ও খানাখন্দ বড় হয়ে এ সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মহানগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে শিপইয়ার্ড হয়ে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত সড়কেরও বেহাল দশা। ভাঙা সড়কটি এখন অসহনীয়। দায়ে না পড়লে ভারি কিংবা হালকা কোন যানবাহনই আর এ পথ মাড়ায় না।

নগরীরপ্রাণকেন্দ্র্রে শামসুর রহমান রোডও ভেঙ্গেচুরে একাকার হয়ে আছে।একই অবস্থা টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড, টুটপাড়া মেইন রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, হাজী মহসিন রোড, ফারাজি পাড়া মেইন রোড, ইকবাল নগর, বানিয়াখামার, নাজিরঘাট এলাকার। নগরীর প্রধান সড়কগুলো ছাড়া অলিগলি ও পাড়া মহল্লার বেশির ভাগ রাস্তারই এখন বেহাল দশা।

সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বাইপাস সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৩ সালের ৩০ জুন। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর খুলনা সিটি করপোরেশন ও এজিইডিকে সড়কটি হস্তান্তর করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। সড়কটির মহানগরীর অংশ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এবং বাকি অংশ এলজিইডি। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে জয়বাংলার মোড় পর্যন্তপ্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কটির কার্পেটিং উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। যানবাহন চলাচলের জন্য ভাঙা ইট ফেলা হয়েছে। তবে বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তে জমে হাঁটুপানি।এ অবস্থায় নগরীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ব্যস্ততম এই সড়কটিতে স্বাভাবিক পরিবহনসহ যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে নতুন রাস্তা মোড় পর্যন্ত মুজগুন্নি সড়কটির বেহাল অবস্থা।

খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে নতুন রাস্তা মোড় পর্যন্ত মুজগুন্নি সড়কটির অবস্থা এত বেহাল যে, বড় বড় খানা-খন্দ ও গর্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ মহাসড়কটির বিভিন্নস্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্নস্থানে ডেবে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব স্থানে পানি জমে থাকে। এ সড়কের আশপাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির সেক্টর সদর দফতর, নৌ-বাহিনীর ঘাঁটি (বানৌজা তিতুমীর), বিএনএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অ্যাংকরেজ স্কুল, নৌ-বাহিনী ভর্তি কেন্দ্র, নাবিক কলোনি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন, মুজগুন্নী শিশু পার্ক, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, খুলনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রায়েরমহল (অনার্স) কলেজ, নগরস্বাস্থ্য কেন্দ্র্রসহ সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য প্রতিষ্ঠান।

খুলনা-কুষ্টিয়া রুটে চলাচলরত গড়াই পরিবহনের চালক মো: রমজান আলী বলেন, বাস চালিয়ে যখন আসি তখন মনেই হয়না কোন বিভাগীয় সদরে আসছি। গর্ত হয়ে যাওয়া পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় বেঘোরে পড়ে যাত্রীদের গালমন্দ শুনতে হয়। আবার প্রত্যেকে দিন গাড়ির কোন না কোন পার্টস ভেঙ্গে বা নষ্ট হয়ে মালিকের অবিশ্বাসের কারণ হতে হয়।

এ এলাকার বিভিন্ন দোকানে নিজস্ব ভ্যানে ফেরী করে খাবার বিক্রি করেন মো: আল আমিন। তার মতে মুজগুন্নি, বাস্তহারা এলাকার একটা কোন রাস্তা নেই যেটা ভালো আছে। বয়রা থেকে রায়েরমহল হয়ে মোস্তর মোড় পর্যন্ত রাস্তা না চাষ করা ধানের খেত তা বোঝার সাধ্য নেই।

মুজগুন্নি শিশু পার্কের সামনে চায়ের দোকানী বেবী বেগম জানালেন, শুকনোর সময় ধুলায় ধোয়ায় ব্যবসা করা দুস্কর। আর বর্ষার সময় সামনের রাস্তা পানিতে তলিয়ে থাকে। প্রত্যেক দিন ৮/১০ টা মটর সাইকেল, ইজি বাইক উল্টে পড়ায় ছুটে গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

সুশানের জন্য নাগরিক সুজন খুলনার সম্পাদক অ্যাডভাকেট কুদরত ই খুদা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অবহেলার কারণে সড়কগুলোর যথাযথভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে না। এছাড়া পানি নিস্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় সড়ক নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে সড়ক সংস্কারে বাজেট কম রাখা ও অল্প খারাপ হলে মেরামত করা হয় না। ফলে বেশি খারাপ হলে সংস্কার ব্যয় বেড়ে যায়। অর্থের অভাবে আর সহজে সড়ক সংস্কার হয় না। যার ভোগান্তি পোহাতে হয় জনসাধারণের।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো: এজাজ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বর্ষার কারণে সড়কের বেশির ভাগ স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাজেট পাওয়া সাপেক্ষে ক্রমান্বয়ে কাজ করে রাস্তার সংস্কার করা হচ্ছে। আমার বাজেট প্লেস করছি। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বৃষ্টির মৌসুমের পর প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হবে।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র জানায়, মহানগরীতে এক হাজার ২১৫টি সড়ক রয়েছে। যার মোট দৈর্ঘ্য ৬৪০ কিলোমিটার। এরমধ্যে মূল সড়কগুলোর দৈর্ঘ্য ২০০ কিলোমিটারের মতো। নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক হিসেবে মুজগুন্নি মহাসড়কটিও কেসিসির আওতাধীন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top