পুড়ে যাওয়া বস্তিতে মানুষের আহাজারি

mirpur-fire-6-5d57a73c45678.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট, প্রবর্তন| প্রকাশিতঃ ১৫:৫২, ১৭ আগস্ট ২০১৯

রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বরে মিল্কভিটা মোড় সংলগ্ন বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে গেছে সেখানকার সব ঘর-বাড়ি। শুক্রবার রাতে ভয়াবহ আগুনে যখন বস্তি পুড়ছিল, তখন রাস্তায় বসে অনেকেই আহাজারি করছিলেন। সেই আহাজারি থামেনি শনিবার দুপুর পর্যন্ত।

টেলিভিশন, মোবাইল, টাকা-পয়সা, আসবাবপত্র সহ অনেকের শেষ স্মৃতিটুকুও কেড়ে নিয়েছে এই আগুনের লেলিহান শিখা। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অনেকেই রাত থেকে এখনও কাঁদছেন। অনেকে আবার আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ হাতড়ে পুরনো স্মৃতি খোঁজার চেষ্টা করছেন।
আগুনে পুড়ে টিন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

বস্তির অনেকেই নিজের কাজে ঘরের বাইরে ছিলেন। আগুন লাগার কথা শুনে তারা এসে দেখেন বস্তিতে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। ভেতরে ঢোকার মতো পরিস্থিতি নেই। আবার কেউ কেউ ঘরেই ছিলেন। আগুন লাগার পর তারা প্রাণ বাঁচাতে বাইরে যান।

সোহাগ নামে এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক থাকতেন ওই বস্তিতে। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুর সদরে। তিনি জানান, নিজের বলতে তেমন কিছুই তার ছিল না। তারপরও যেটুকু ছিল, তার কিছুই ঘর থেকে বের করতে পারেননি।

রাতে সরেজমিন গিয়ে এমন অনেক ভুক্তভোগীকে পাওয়া যায়, যাদের সহায়-সম্বল বলতে আর কিছু নেই। সব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব।

মর্জিনা বেগম নামে এক বৃদ্ধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মোবাইল ফোনসেটটি তার হাতে ছিল, শুধু সেটিই রক্ষা পেয়েছে। আর ঘরে থাকা সব কিছুই পুড়েছে। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর। সেখানে স্বজনদের কাছে মাসে মাসে কিছু টাকা পাঠাতে হয়। কিন্তু এখন তার নিজের খাওয়ারই কোনো সংস্থান রইল না।

এর আগে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রথম বস্তি থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া উঠতে দেখে লোকজন। বস্তির ঘরগুলো কাঁচা হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন অনেকটা জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে স্থানীয় কয়েকজন পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। তবে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে যান। এর মধ্যেই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।

আগুন লাগার প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তা নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!