চিতলমারীতে ঠিকাদারের কাজের ফাঁকিতে জনগনের ভোগান্তি

CHITALMARI-NEWS-06.08.2020-1-1.jpg

চিতলমারী প্রতিনিধি : মাত্র কয়েক মাস আগে রাস্তা গুলোর মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। অথচ কিছু দিন যেতে না যেতেই তা কার্পেটিং উঠে নষ্ট হয়ে গেলো। রাস্তা এখন খানাখন্দে ভরা। অনেক রাস্তাতো কাঁদা মাটিতে একাকার। চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। তাই ঠিকাদারের কাজের ফাঁকি এখন জনগনের ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিপদের মোড়ে বসে এমনটাই জানালেন বয়সের ভারে ন্যূয়ে পড়া ভ্যানচালক নবের আলী শেখ (৬৫)।

তিনি আরো জানান, এ উপজেলার অধিকাংশ সড়ক এখন যানবহন চলাচলের অনুপযোগি। মাত্র ৬ থেকে ৮ মাস আগে মেরামত করা রাস্তা গুলো এখন ভ্যান, নছিমন ও ট্রাক ড্রাইভারদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ প্রতি বছর সরকারের বাজেটের কোন ঘাটতি নেই। সংস্কারের জন্য উন্নয়ন ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু তদারকির অভাবে রাস্তা-ঘাটের এই করুণ অবস্থা। এখানে ঠিকাদারের লোকজন কাজ করার সময় ইঞ্জিনিয়ার অফিসের এসও ঠিকমত সাইডে আসে না।

বোয়ালিয়া গ্রামের ভ্যান চালক শান্তি রঞ্জন মন্ডল, বাবুগঞ্জের আক্কাস আলী, সুরশাইলের আকবর আলী, খিলিগাতী গ্রামের মিঠুন বাওয়ালী ও পাটরপাড়া গ্রামের জাহিদ আলীসহ অনেকে জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি আটকে সেখানে মরণ ফাঁদের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সবজি বোঝাই ট্রাক চরমভাবে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কোথাও কোথাও ট্রাক আটকে পড়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে ব্যপারীদের রোষানলে পড়ে সবজির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চাষীরা। অনেক সড়ক আবার সংষ্কারের অভাবে চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগি হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে হিমসিম খাচ্ছেন।
ফরিদপুরের ভাংগা এলাকার ট্রাক ড্রাইভার মোঃ মাসুদ বেপারী জানান, তিনি ১৩ বছর ধরে গাড়ী চালান। বহু খারাপ রাস্তা চলেছেন। কিন্তু চিতলমারী আসলে বুকের ভিতর কাঁপে। সর্বক্ষণ আতংকে থাকেন। কখন যেন গাড়ী ফেসে যায়। এই সমস্ত রাস্তা তাড়াতাড়ি সংস্কার হওয়া দরকার বলে তিনি দাবী করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোন ঠিকাদার মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিন শেখ সাংবাদিকদের জানান, তার এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার কথা তিনি মাসিক আইন-শৃংখলা মিটিংয়ে তোলেন। কিন্তু তার কথায় কেউ সাড়া দেয়নি।

তবে চিতলমারী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকারিয়া ইসলাম বলেন, যে সকল রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ তার অধিকাংশ সড়কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় খাল পুনঃখনরের কাজে ব্যবহৃত দশ চাকার বড় গাড়ী চলাচলের জন্য হয়েছে। বাখরগঞ্জ থেকে গোদাড়া গেটের রাস্তাটি কয়েক স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া মধুমতী ও চিত্রা নদীর পাড়ে চিতলমারী থেকে বাবুগঞ্জ এবং চিতলমারী থেকে বাখরগঞ্জ সড়কে ফাটল ধরেছে। অফিসিয়াল ভাবে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি এবং জনদূর্ভোগ নিরসনের জন্য আমরা দ্রুত চেষ্টা করছি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!