‘এটা সম্পূর্ণ অরাজকতা, কারোর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই’

dhakapost-20220806141548.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রাজধানীতে গণপরিবহনের কার্যত অঘোষিত অবরোধ চলছে। রাস্তায় গণপরিবহনের উপস্থিতি কম থাকায় ভাড়া নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা, এমনটাই দাবি যাত্রীদের।

শনিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, সাতরাস্তা, হাতিরঝিল ও বাড্ডা এলাকা ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ১৫০ টাকায় যে দূরত্বে যাওয়া যেত ওই দূরত্বে যেতে আজ ২৫০-৩০০ টাকা দাবি করছেন। অনেক সিএনজিচালক ২-৩ জন যাত্রীর সঙ্গে আলাদা আলাদা চুক্তি করে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া দাবি করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিশেষ করে অফিস টাইমে রাজধানীর সড়কগুলো গণপরিবহন শূন্য ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গণপরিবহন রাস্তায় দেখা গেলেও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ফলে অফিসগামী মানুষদের বিপাকে পড়তে হয়। কাছের গন্তব্যে যেতে রিকশা ও দূরের গন্তব্য যেতে সিএনজিতে যেতে চান যাত্রীরা।

আরও পড়ুন : জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্দয় ও নজিরবিহীন

এ সুযোগে সিএনজিচালকরা ইচ্ছেমত ভাড়া দাবি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন বলে দাবি করছেন যাত্রীরা। অভিযোগ করে এক যাত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর জন্য আজ বাস বন্ধ করে ফেলবে তা তারা আগেই আন্দাজ করেছিলাম। সিএনজি দিয়ে যেসব গণপরিবহন চলতো সেসব বাসও আজ চলছে না। এ মোক্ষম সুযোগ হাতে পেয়ে সিএনজি চালকরা কয়েকগুণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। সব শেষে যত ভোগান্তি সাধারণ মানুষদের।

রাজধানীর নতুন বাজার এলাকায় সিএনজির সঙ্গে ভাড়া বনাবনি না হওয়ায় হেঁটে বিমানবন্দর এলাকায় যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছেন মো. গোলাপ মিয়া।তিনি বলেন, নতুন বাজার থেকে বিমানবন্দরের ফুটওভার ব্রিজের নিচে সিএনজি ভাড়া ১৫০ টাকা। কিন্তু আজ এক লাফে দ্বিগুণ করে ৩০০ টাকা চাইছেন চালকরা। এইটা সম্পূর্ণ অরাজকতা, কারোর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই পরিস্থিতির ওপর।

বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষদের ভুগতে হয় সব। আমার পক্ষে এত টাকা ভাড়া দিয়ে অফিস করা সম্ভব নয়, তাই হেঁটে রওনা দিয়েছি।মহাখালীর সাতরাস্তায় গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষমাণ উত্তরাগামী যাত্রী মো. শাজাহান বলেন, অবরোধ বা অন্য কোনো কারণে বাস বন্ধ থাকলে সিএনজি চালকদের ভাড়া নৈরাজ্য নতুন কিছু নয়। এরা সাধারণ মানুষের পকেটে কাটার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।

এদিকে সিএনজি চালকরা জানান, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে তারাও ভাড়া কিছুটা বাড়িয়েছেন।এ বিষয়ে সিএনজিচালক মো. মোমেন বলেন, ডিজেল-পেট্রলের দাম বাড়ছে। এখন বাস মালিকরাও ভাড়া বাড়াইব। এই কারণে সব জিনিসের দামও বাড়ব। আমরা যদি ভাড়া না বাড়াই তাহলে আমরা চলমু কীভাবে।

এদিকে গণপরিবহন বন্ধের সুযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শনিবার সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে রাজধানীবাসীকে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের পুনর্নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য লিটারপ্রতি ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা, লিটারপ্রতি অকটেন ১৩৫ টাকা ও লিটারপ্রতি পেট্রোল ১৩০ টাকা করা হয়। এতদিন কেরোসিন ও ডিজেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা প্রতি লিটার ও পেট্রোল ৮৬ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top