জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত তারা

police-bg-20220804180721.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : অভিনব কায়দায় জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বিদেশগামী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সামিউল ইসলাম সজিব ও মো. নাইম হোসেন নিলয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ২টি মোবাইল ফোন ও ৭টি সিল এবং বেশ কিছু জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জব্দ করা হয়।

বুধবার (৩ আগস্ট) বিকেলে বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিন্টুরোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদ।

তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি কম্পিউটারে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে আসল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের অনুরূপ নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট তৈরি করে বিদেশগামী মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে সংবাদ আসে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কাজ শুরু করে ডিবি-সাইবারের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। এক পর্যায়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা ২০১৯ সাল থেকে জেএসএন ইন্টারন্যাশনাল কনসালট্যান্সি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর জন্য বিদেশ গমনেচ্ছুদের সঙ্গে চুক্তি করত। এজেন্সির শর্তানুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিত। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও ক্ষেত্র বিশেষে স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আলাদা করে টাকা নিত। তারপর অরিজিনাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট না দিয়ে কম্পিউটারে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে আসল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের অনুরূপ নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রস্তুত করে বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানে সফটকপি আকারে সাবমিট করত।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তারা ৩০ জন ব্যক্তিকে রোমানিয়ায় পাঠানোর জন্য চুক্তি করে। ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার জন্য প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জমা দেয়। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি যাচাই করে জানতে পারে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটগুলো ভুয়া। যার ফলে কোম্পানি ৩০ জন ব্যক্তির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে দেয়। এতে প্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এমনকি দীর্ঘ দেড় বছর অপেক্ষা করেও তারা আজ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাশিত দেশে যেতে পারেননি। টাকাও ফেরত পাননি।

ডিবি প্রধান বলেন, বিদেশ গমন কিংবা দেশের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরির ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়। জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশ গেলে মহাবিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি পেশাদার বা চিহ্নিত অপরাধীরাও জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে যেতে পারে। এজন্য বিদেশ যাওয়ার আগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সঠিক কি-না তা যাচাই করে নিতে হবে।

বনানী থানায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top